fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন কমিটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, পোষ্টার স্কুলের গেটে

মিলন পণ্ডা, পূর্ব মেদিনীপুর: তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি পোষ্টারের পর এবার স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল পরিচালন কমিটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পোষ্টার পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের একটি স্কুলে। শনিবার সকালে জেলার মারিশদা বিজয়কৃষ্ণ জাগৃহি বাণীপীঠ স্কুলের গেটে সামনে একাধিক পোষ্টারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন বাজারেও পোষ্টার লক্ষ করা যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন কমিটির সম্পাদক। গ্রামবাসীরা তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঘটনার পর এলাকা আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক দুলাল রায় ও স্কুলের পরিচালন কমিটির সম্পাদক মানিক দোলাই।উত্তেজিত গ্রামবাসীরা দুইজনকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। উত্তেজনা চরমে উঠল ঘটনাস্থলে হাজির হয় তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য চন্দ্রশেখর মন্ডল৷ ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, শনিবার সাত সকালে স্কুলের গেটে কাটমানি ধাঁচে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালন কমিটির সম্পাদকের নামে একাধিক দুর্নীতির পোষ্টার নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এছাড়াও মারিশদা বাজার, দইসাই বাজার সংলগ্ন এলাকাতেও পোষ্টার লক্ষ করা যায়। মিড ডে মিলের টাকা আত্মসাৎ, স্কুলের নতুন বিল্ডিং নির্মাণে টাকা আত্মসাৎ, চাকুরীর নামে টাকা আত্মসাৎ সহ একাধিক দুর্নীতি নিয়ে পোষ্টারে লেখা রয়েছে। প্রতিকার চেয়ে  বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্কুলের মিড ডে মিলের টাকা আত্মসাৎ করেছে, স্কুলের নতুন বিল্ডিংয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে ও চাকুরি দেওয়ার নাম করে কয়েক লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে দুনীতির কারণে এলাকার মানুষ সোচ্চার হয়েছেন। বিক্ষোভ চরমে উঠল বিদ্যালয়েট পেছন গেট দিয়ে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ প্রধান বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালন কমিটি। এই ঘটনার প্রতিকার চাই। স্কুল পরিচালনার কমিটির সম্পাদক মানিক দোলাই বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা একাজ করেছে তা জানা নেই। এটি মিথ্যে অভিযোগ। এসব করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তারা। যদিও এই ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুলাল রায়ের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। একাধিক মোবাইলে ফোন করা সুইচ অফ। এলাকার সিপিএম নেতা ঝাড়েশ্বর বেরা বলেন, বোর্ডে যারা ছিলেন তাদের নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ করা হয়েছে। যেমন প্যানেল বোর্ডে ছিলেন প্রধান শিক্ষক। তার ছেলেকেই নিয়োগ করা হয়েছে চাকরিতে যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কাঁথি সংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা নবীন প্রধান বলেন, “তৃনমুল দল পুরোটা দুনীতি গ্রস্ত।এই দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পোষ্টার পড়বে না, তা হতে পারে না!”

Related Articles

Back to top button
Close