fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাঁধ মেরামতির সরকারি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ, সরব মালদাবাসী

মিল্টন পাল, মালদা: মালদার মানিকচক ব্লকের ফুলহার নদীর ভাঙন ও বন্যা প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৫ মিটারের বেশি গভীরতা সম্পন্ন ফুলহার নদীতে জেলা সেচ দফতরের উদ্যোগে ২০মিটার এলাকাজুড়ে মাটির বস্তা দিয়ে পাড় মেরামতির কাজ চলছে। সেচ দফতরের কর্তাদের হিসাবেই এই কাজে প্রয়োজন ৮০হাজার মাটির বস্তা। আর এই কাজের একটি বস্তার মূল্য মাত্র ১১টাকা। এই টাকায় রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি সহ মাটির মূল্য। কিন্তু এই কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪৪লক্ষ টাকা। যেখানে বাঁধ মেরামতিতে খরচ প্রায় নয় লক্ষ টাকা। এইখানেই এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি টাকা লুঠ করছেন সেচ দফতরের আমলা থেকে ঠিকাদার সংস্থা। একেই তো বর্ষার সময় নদীতে কাজ। তার উপর নদীর চরের মাটি কেটে তা বস্তায় ভরে জলে ফেলা হচ্ছে। কাযর্ত বিসর্জন করা হচ্ছে। ফলে নদীর পাড় বসে যাচ্ছে। প্রশাসনের কর্তারা সব জানেন। তবুও নিশ্চুপ।

গ্রামের বাসিন্দা নিখিল মন্ডল জানান, মূলত নদীর চরের মাটি বস্তায় ভরে এই ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হচ্ছে। যার ফলে একদিকে নদীর চরিত্র নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে যেভাবে কাজ করা হচ্ছে তাতে বর্ষার মরশুমে গঙ্গার জলে মাটি সরে গিয়ে আবার ভাঙন দেখা দিতে পারে। আমরা চাই সেচ দফতর ঠিকাদার সংস্থার সঠিকভাবে কাজ করলেই ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব। না হলে এই বছর আরও বেশকিছু গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় পিএম কেয়ার ফান্ডের টাকায় দেশীয় প্রযুক্তিতে চলছে ভেন্টিলেটর তৈরির কাজ

বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, সেচ দফতর রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সঙ্গে শাসক দলের মদতে এই ধরনের বেআইনি কাজ করে মানুষের নজর ঘোরাতে চাইছে। বাঁধ মেরতির কাজের টাকা লুঠ করছে শাসক দল। যার একদিকে নদীর মাটি নদীতে যাচ্ছে বাঁধ রক্ষার কোনও কাজ হচ্ছে না।

মুর্শিদাবাদের ডোমকল কলেজের অধ্যাপিকা তথা নদী বিশেষজ্ঞ অনুরাধা সেনগুপ্ত বলেন, যে ভাবে নদীর চরের মাটি কেটে বাঁধ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাসকারী ভুতনি চর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সেখানে মানুষের বসবাস করতে পারবে না। পাশাপাশি বদলে যাবে নদীর চরিত্র। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি এই নদীর চরের মাটি অনেক ইঁট ভাটায় চলে যাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রয়োজনে ভূতত্ত্ব বিশারদের সহযোগিতা নেওয়া উচিত সেচ দফতরের। আর এই ধরনের নদীর চর কাটা হলে প্রকৃতির বিরূপ রূপ দেখা যাবে। যা হয়তো আগামী দিনে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

জেলা সেচ দফতরের আধিকারিক প্রণব কুমার সামন্ত জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে নদী ভাঙ্গনের কাজ করা হচ্ছে। মানুষের অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি।যাতে সেখানে সঠিক কাজ হয়।

প্রসঙ্গত, ভাঙনে তলিয়ে যাওয়া গঙ্গার অস্থায়ী বাঁধ মেরামতির জন্য বরাদ্দকৃত টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ আগেই এনেছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। নদীর চরের মাটি কাটার ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে লক্ষাধিক মানুষের বসবাসকারী ভূতনির গ্রাম। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা চরিত্র বদলে যাবে নদীর।

ফি বছরে তলিয়ে গিয়েছিল মালদার মানিকচকের শংকরটোলা নদী বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার।তলিয়ে গিয়েছিল প্রাচীন মন্দির। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বেশকিছু বাড়ি ও গঙ্গা গর্ভে চলে যায়। বাধ্য হয়ে ওই গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা অন্য জায়গায় আশ্রয় নেয়। যদিও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য।এমনকী নদীর চরের মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞদের ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close