fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাঁধের মাটি কেটে ভুতনি সেতুর কাজ করার অভিযোগ, নদী ভাঙ্গন ও বন‍্যার আশঙ্কা স্থানীয়দের

মিল্টন পাল, মালদা: ভুতনি সেতুর প্রায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড তৈরিতে ওই এলাকার রিং বাঁধের মাটি কেটে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর যার ফলে ভুতনি এলাকায় ফের নতুন করে ফুলহার নদীর ভাঙ্গন ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামের বাসীন্দারা। ইতিমধ্যে বিষয়টি জানতে পেরে সেচ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সামন্ত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন

ফুলহার নদীর ভাঙ্গন থেকে ভুতনিকে বাঁচাতে কয়েক দশক আগে রিং বাঁধ তৈরি করেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত গনিখান চৌধুরী। কিন্তু পুরো প্রশাসন এবং জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতিশ্রুতি মতোই কয়েক বছর আগেই মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার ফুলহার নদীর উপর তৈরি হয়েছে দীর্ঘকায় সেতুটি। ওই সেতুটি তৈরি হলেও সেখানকার অ্যাপ্রোচ রোড ছিল না। ফলে ভরা বর্ষার মরশুমে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছিল ভুতনি থানা এলাকার হাজারো গ্রামবাসীদের। এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডল , জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা ওই এলাকায় তদারকিতে যায়। এরপরই প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পের বরাদ্দ টাকায় ভূতনি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের কাজের বরাত দেওয়া হয়। এই কাজটি একটি ঠিকাদারি সংস্থা করছে।

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভুতনি সেতু অ্যাপ্রোচ রোডে জিরো পয়েন্ট কালিটোলা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। বালি , মাটি এবং পাথরের চিপস্ ব্যবহার করে ওই রাস্তাটির কাজ করেছে একটি ঠিকাদারি সংস্থা। এই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজেই ভুতনি এলাকার রিং বাঁধের মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে নির্মাণকারী ওই ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বহু বছর আগে প্রয়াত কংগ্রেস সাংসদ গনিখান চৌধুরী ভুতনি এলাকাকে নদীর ভাঙ্গন থেকে বাঁচাতেই রিং বাঁধটি তৈরি করেছিলেন। তারপর রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ওই এলাকার মানুষদের স্বার্থের কথা ভেবেই কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় করেই ভুতনি সেতুটি তৈরি করেন। কিন্তু এখন এই রিং বাঁধের কাজ নিম্নমানের হচ্ছে বলেই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের আরও অভিযোগ , রিং বাঁধের মাটি কেটে অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়বে। নদীর জল বাড়ছে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকায় ভাঙন এবং বন্যা হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুরো বিষয়টি একাংশ গ্রামবাসীরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

তৃণমূলের মালদা জেলা পরিষদের সদস্য ডলিরানি মণ্ডলের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা দিলীপ মন্ডল বলেন, ভুতনি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ সরকারি নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। বাঁধের মাটি কাটা হয়নি। বরং বাঁধের যেসব জায়গায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেখানে পুনরায় এই রাস্তার কাজের সঙ্গে সেটিও মেরামতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজে বরঞ্চ বিজেপি অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। তারা কাটমানি না পেয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, ভুতনি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ নিয়ে নানান দুর্নীতির অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। এব্যাপারে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত বিষয়টি জানাব।

Related Articles

Back to top button
Close