fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিশ্বকর্মা থাকলেও পুজোয় জৌলুস নেই দুর্গাপুর বিশ্বকর্মানগরীতে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ঝাঁপ বন্ধ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার। তালাবন্ধ বহু বেসরকারী কারখানা। নামমাত্র বিশ্বকর্মা পুজো হলেও জৌলুস নেই দুর্গাপুরের খোদ বিশ্বকর্মা নগরীতে। কারখানার ঝাঁপ বন্ধের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে শিল্পশহরবাসীকে।

দুর্গাপুরে মাইনিং এন্ড অ্যালয়েড মেশিনারি কর্পোরেশন(এমএএমসি) কারখানা। ঠিক তার বিপরীতে ছিল ভারত অপথালমিক গ্লাস (বিওজিএল) কারখানা। দুটোই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা। শিল্প কারখানার জন্য তৎসংলগ্ন এলাকার নাম হয়েছে বিশ্বকর্মানগরী। একসময় মহা ধুমধামে পালিত হত শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার। পুজোর চারদিন ধরে মেলা বসত। পুজোর আগের দিন থেকে শিল্পশহরবাসীর জমাটি ভিড় থাকত। মেলার সঙ্গে থাকত নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু সেসব জৌলুস এখন ফিকে হয়ে গেছে। টাউনশীপ থেকে কারখানা যাওয়ার রাস্তা আজও কঙ্কালসার চেহারা। ২০০২ সালে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে এমএএমসির। রুজি হারিয়েছে বহু মানুষ। অন্ধকার নেমে আসে বিশ্বকর্মানগরীতে। এখন কারখানার

পরিকাঠামোটুকু থাকলেও জঙ্গল আর লতাপাতায় ঢাকা পড়েছে। ঘাঁটি গেড়েছে জঙ্গলি কুকুর আর বনশুয়োরের দল। বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপও। ২০১০ সালে কারখানাটিকে পুনুরুজ্জীবনের জন্য তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হাইকোর্টে নিলামে সর্বোচ্চ দরে কিনে নেয়। কিন্তু ওই পর্যন্ত। কারখানা চালু হয়নি আজও। আবার ২০০৭ সালে বন্ধ হওয়া বিওজিএলের কারখানার অস্তিত্বটুকুও নেই। নামটুকু শুধু রয়ে গেছে। আর কারখানা বন্ধ হওয়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মুখ ম্লান এমএএমসিবাসীর।

আরও পড়ুন: করোনায় মৃতদের অস্থি-চিতা-ভস্ম সংগ্রহ করতে বিশেষ পাত্র দিচ্ছে পুরসভা

শ্রমিকনেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় জানান,” এইদিনটা আসলেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। কারখানা গেটে ছোটো করে শুধু নামমাত্র পুজো হয়। কারখানার উৎপাদিত খনি সরঞ্জামের চাহিদা প্রচুর। নেই শুধু সরকারের মানসিকতা। গত ৮ বছর ধরে তিন সংস্থার কনসোটিয়াম মাসে ২২ লক্ষ টাকা খরচ করছে পরিকাঠামোটুকু দেখভালের জন্য, অথচ উৎপাদন শুরুর বিষয়ে কোন উৎসাহ নেই।”

সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান,” দুর্গাপুরে অতীতে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ২০ টিরও বেশী বেসরকারী কারখানা বন্ধ হয়েছে। রুজি হারিয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। পরিকাঠামো থাকলেও রাজ্য ও কেন্দ্র কোন সরকারের পুনরুজ্জীবন নিয়ে কোন উদ্যোগ নেই।” পাশাপাশি মাথার ওপর খাড়া ঝুলছে অ্যলয় স্টীলের ভবিষ্যত। সেই আতঙ্কে শিল্পশহরবাসী।

Related Articles

Back to top button
Close