fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার কারণে কিছু পরিবর্তন হলেও তিনশো বছরের চাঁচোল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় উৎসাহে ভাটা পড়েনি

মিল্টন পাল, মালদা: জেলার পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মালদার চাঁচোল রাজবাড়ির পুজো। করোনা আবহের মধ্যে চাঁচোল রাজবাড়ির পুজোর মূল মন্দিরের সামনে ভক্তদের ভিড় এড়াতে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই চণ্ডীরূপী পিতলের দুর্গা মূর্তিকে দুই কিলোমিটার দূরে পাহারপুর মন্দির চাঁচোল রাজবাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রায় তিনশো বছরের পুরনো চাঁচোল রাজবাড়ির পুজো এবার করোনা আবহের কারণে কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে পুজোর জৌলুস কমলেও উৎসাহ হারায়নি স্থানীয় বাসিন্দারা। দূর থেকে হলেও দেবী দুর্গার কাছে মানত করে এবং ভোগ নিবেদন করতে ভক্তেরা আসবেন এমনটাই জানিয়েছে চাঁচোল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ।

যদিও এখন রাজবাড়ির অর্ধেকটা অংশই চাঁচোল মহকুমা অফিস, আদালত, কলেজের অধীনে চলে গিয়েছে। বাকি অংশ রাজবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে চাঁচোল অফিসিয়ালস ট্রাস্টবোর্ড।

চাঁচোল অফিশিয়াল ট্রাস্ট বোর্ডের সুপারভাইজার পিনাকী জয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুজো পুরনো রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হবে। তবে করোণা আবহের কারণে মহাষ্টমীতে যে পংক্তি ভোজনের আয়োজন করা হত। তাতে এবার কাটছাঁট করা হয়েছে। পাশাপাশি দেবী মন্দিরের মূল গেটের ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকবে।

চাঁচোলের প্রবীণদের কথায়, একসময় চাঁচোল রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী কামান ফাটিয়ে ১০৮টি পদ্মফুল এবং ১০০টি প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবী দুর্গারপুজো করতেন। প্রায় ৩০০ বছর আগে চাঁচোলের রাজা শরৎ চন্দ্র রায় চৌধুরীর পূর্বপুরুষেরা পাহাড়পুর গ্রামের মহানন্দা নদীতে ঘাটে স্নান করতে গিয়ে কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনীর মূর্তি নদীতে কুড়িয়ে পান। এরপর রাজ পরিবারের সদস্যদের দেবীদুর্গা চণ্ডীরূপে স্বপ্নাদেশ দেয়। সেই স্বপ্ন পাওয়ার পর থেকেই বহু নিয়ম মেনেই রাজবাড়ির দুর্গাপুজো হয়ে আসছে পুরনো নিয়ম মেনে। তবে চাচোল রাজার কোনও উত্তরসূরি না থাকায় এখন পুজোর সবটাই দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে চাঁচোল অফিসিয়াল ট্রাস্ট বোর্ড।

যদিও চাঁচোলবাসীদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে রাজবাড়ি দেবী দুর্গাপুজোর কামান দেগে আরাধনা হয় না। স্থানীয় গ্রামবাসী ও অফিসিয়ালস ট্রাস্টবোর্ডের উদ্যোগেই চাঁচোল রাজার পুজো ধুমধাম করে পালিত হয়ে আসছে। চণ্ডীরূপী চার হাতের দেবী দুর্গা এখানে বিরাজ করছে। সপ্তমীর দিন শোভাযাত্রা সহকারে রাজবাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর মন্দিরে দেবী মূর্তিকে নিয়ে যাওয়ার সময় বহু ভক্তের ভিড় হয়। কিন্তু এবারে সামাজিক দূরত্ব মেনেই সেই নিয়ম পালন করা হবে বলে চাঁচোল রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: লাভ জিহাদের বিতর্ক, বিজ্ঞাপন তুলে নিল গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা

চাঁচল অফিসিয়াল ট্রাস্টবোর্ডের সুপারভাইজার পিনাকী জয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দেবী চণ্ডী দুর্গা রূপে পূজিত হন। পাহাড়পুর গ্রামের চণ্ডী দেবী দুর্গার পুজোর ১৩ দিন আগে কৃষ্ণা নবমীতে ঘট পূজা দিয়ে শুরু হয়।

পিনাকীবাবু আরও জানিয়েছেন, সপ্তমীর দিন পুরোনো নিয়মে চাঁচোল রাজবাড়ি থেকে পঞ্চবাদ্য বাজিয়ে পাখা দিয়ে হাওয়া করতে করতে মহোৎসবে পিতলের ছাতার তলায় বসিয়ে পাহাড়পুরে নিয়ে আসা হয় কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনী মূর্তিটিকে। অষ্টমীতে কুমারী পূজা দেখতে ব্যাপক ভক্তদের ভিড় হয়। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে এখানে কুমারী পুজো হয়। কিন্তু এবারে এসব কর্মসূচিতে কাটছাঁট করা হয়েছে। পুজোর নিয়ম-নীতি সবটাই মানা হবে ঠিকই। কিন্তু জমায়েত করতে দেওয়া হবে না। তার জন্য মূল গেটের সামনেই ব্যারিকেড করে দেওয়া হবে। দেবী মূর্তি আনার সময় সামাজিক দূরত্ব মেনে পালন করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close