fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় উদ্যোগী আমেরিকা, চাপে চিন-পাকিস্তান

ওয়াশিংটন: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা রক্ষায় উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার বিদায়ী মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, ‘অবাধ ও স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থার জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা অবশ্য পালনীয় অধিকার। যেসব দেশ এই স্বাধীনতায় আঘাত হানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ এরপরেই তিনি যোগ করেন, ‘পাকিস্তান ও চিন-সহ বেশ কয়েকটি দেশকে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের আওতায় ‘উদ্বেগজনক দেশের’ তালিকায় রাখা হয়েছে।’ মার্কিন বিদেশ মন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই স্বাভাবিক ভাবেই চাপ পড়েছে চিন ও পাকিস্তান।

কেননা, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের কথা অজানা নয়। একইভাবে চিনে উইঘুরদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের বিষয়টিও সবার জানা। এই কারণে মাইক পাম্পেও আগেও বলেছিলেন,  ‘চিনের কমিউনিস্ট পার্টির দমন নীতির ফলে সেখানে বসবাসকারী সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের জীবনই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রোটেস্ট্যান্ট হাউস চার্চ ও তিব্বতীয় বৌদ্ধসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষরা প্রায় প্রতিদিনই অকথ্য অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ধর্মীয় স্বাধীনতার আলো যেভাবে নেভানোর চেষ্টা চলে তা একথায় ভয়ানক।’ চলতি বছরের জুলাই মাসে উইঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ চিনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তাই নয়, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) নয় কোটিরও বেশি সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রশাসন।

তবে শুধু চিন বা পাকিস্তান নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণকারী দেশ হিসাবে মার্কিন তালিকায় রয়েছে, মায়ানমার, ইরিট্রিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কঙ্গো।’ এদিন বিদেশ সচিব পম্পেও আর জানান, রাশিয়া, কিউবা, নিকারগুয়া ও কোমোরোসকে বিশেষ নজরদারি তালিকায় রাখা হয়েছে। এই দেশগুলিতে সরকারি উসকানিতে ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ আমেরিকার। এই বিষয়ে পম্পেও বলেন, ‘ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনায় ইতি টানতে অক্লান্তভাবে কাজ করবে আমেরিকা। প্রতিটি মানুষ যাতে নিজের বিবেকের কথা শুনে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে সেই চেষ্টা করব আমরা।’

এদিকে, ফ্র্যাঙ্ক আর উল্ফ ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাক্ট ২০১৬-এর আওতায় আল-শাবাব, বোকো হারাম, হায়াত তহরির আল-শাম, হাউথি, ইসলামিক স্টেট, তালিবান-সহ বেশ কয়েকটি মুসলিম জঙ্গি সংগঠনকে ‘উদ্বেগজনক প্রতিষ্ঠানের’ তালিকায় রেখেছে আমেরিকা। বিশ্লেষকদের মতে, নয়া মার্কিন পদক্ষেপে বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান ও চিন। কারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এই দেশগুলির বিরুদ্ধে চাইলে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে ওয়াশিংটন। তেমনটা হলে, পাকিস্তানকে দেওয়া মার্কিন অনুদানের একটা বড় অংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একইভাবে, চিনা অধিকেরিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা।

Related Articles

Back to top button
Close