fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গ

দিঘা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমফান, লড়াইয়ে নেমে পড়েছে পুরসভা, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা টিম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই প্রবল শক্তি নিয়ে বাংলায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। আর আয়লার পর এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আগে কখনও রাজ্যে হয়নি।ঘন্টায় এখন তার গতবেগ প্রায় ২৩০ কিমি। আজ দুপুর থেকে বিকালের মধ্যেই সে আছড়ে পড়তে চলেছে বাংলার সৈকত শহর দিঘায়।দিঘা থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমফান। কলকাতা থেকে ২৬০ কিলোমিটার.গঙ্গায় ভরা জোয়ার। জলে ভাসছে গঙ্গার এক নম্বর জেটি পারাদ্বীপ থেকে ১২৩ কিলোমিটার দূরে সুপার সাইক্লোনকলকাতা সহ ৭ জেলায় তাণ্ডবের আশঙ্কা। কলকাতায় আছড়ে পড়ার কথা সুপার সাইক্লোনের। এর জেরে বিশাল ক্ষতির আশঙ্কা করছে কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে কলকাতা নিরাপদে রাখতে মরিয়া প্রশাসন।

পুর ও পুলিশকর্তাদের ভাবাচ্ছে, গাছ উপড়ে যাওয়ার বিষয়টি। শিকড় আলগা থাকায় ফুটপাতের বহু গাছ আজ ঝড়ে উপড়ে যেতে পারে। ভেঙে পড়া গাছ দ্রুত কী ভাবে সরানো যায় তা নিয়ে পুলিশ ও পুরসভার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সুপার সাইক্লোনের ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতি ঘিরে চিন্তায় পুলিশ ও পুর প্রশাসন। ঝড়ের মোকাবিলায় আজ, বুধবার সারা রাতই পুর ভবনে থাকবেন পুর কর্তারা। ওদিকে শহরবাসীকে বাইরে না-বেরোনোর অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে

  • লালবাজার, পুরভবন এবং কলকাতা পুলিশের প্রতিটি ডিভিশনেই খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম।
  • দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে হাইমাস্ট আলোর বাতিস্তম্ভগুলিও।
  • বৃষ্টির জলে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সমস্ত ত্রিফলা আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • ত্রিফলার বিদ্যুত্‍সংযোগ নেওয়া হয় ফিডার বক্স থেকে। সেখানে জলে তড়িদাহত হওয়ার আশঙ্কায় ফিডার বক্সের বিদ্যুত্‍ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে ৩৩০ কিমি দূরে আম্ফান, উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে শুরু ঝড়বৃষ্টি

  • জল জমার সমস্যা আছে এমন এলাকার বেশ কিছু রাস্তার তালিকা সিইএসসি-কে দেওয়া আছে। ওই সব রাস্তায় ফিডার বক্সে জল ঢোকার আগেই বিদ্যুত্‍ বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে।
  • মধ্য ও উত্তর কলকাতার বিপজ্জনক বাড়িগুলির অনেক বাসিন্দাকে সরানো হয়েছে। অনেককে সরে যেতে বলা হচ্ছে। এ নিয়ে মাইকে প্রচারও করেছে প্রশাসন। তবে অনেকে সরে যেতে রাজি হচ্ছেন না।
  • উঁচুতে থাকা ফ্লেক্স, হোর্ডিং নামানোর কাজ চলছে।
  • প্রতিটি বরোয় দু`টি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম ছাড়াও একটি করে বিশেষ দল তৈরি থাকবে। প্রয়োজন মতো তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কেটে ফেলবে। প্রস্তুত জঞ্জাল অপসারণ দফতরের কর্মীরাও।
  • ইতিমধ্যেই কলকাতার ১৬টি বরোয় ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিপর্যয়ের মোকাবিলায় প্রতিটি থানা ও ট্র্যাফিক গার্ডের কর্মীদের বুধবার এবং বৃহস্পতিবার অফিসে থাকতে বলেছে লালবাজার।
  • প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডেই দু’-চারটি দল থাকবে গাছ কেটে যান চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য।
  • দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য পুলিশ ট্রেনিং স্কুল ছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৯ টি বিশেষ দলকে কলকাতা পুলিশের ৯ টি ডিভিশনে রাখা হবে। প্রতিটি ডিভিশনে অতিরিক্ত ৩৫ জনের একটি বাহিনীও প্রস্তুত থাকবে।
  • বলা হয়েছে, ঝড়ের সময়ে রাস্তায় থাকা পুর ও পুলিশকর্মীরা কেউ যেন গাছের তলায় না থাকেন। ঝড়ের পরে দুর্গতদের জন্য স্কুল কিংবা কলেজে আশ্রয় শিবির তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close