fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম মেদিনীপুর, ধুলিস্মাৎ ২১ হাজারের বেশি বাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের সদর দফতর থেকে আমফানের দূরত্ব ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার ৷ কিন্তু তাতেও ফাঁড়া কাটেনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার। আমফানের ডানার ঝাপটাতেই ২টি তরতাজা প্রাণ যেমন গিয়েছে, তেমনই ধ্বংস হয়েছে ২১হাজারের বেশি বাড়ি। আমফানের প্রভাবে শুধু মেদিনীপুর বাদ দিয়ে জেলার ৭টি পুরসভা খড়গপুর, ঘাটাল, খড়ার, রামজীবনপুর, চন্দ্রকোনায় ঘরবাড়ি ভেঙেছে। জেলার ২১টি ব্লকই কমবেশি প্রভাবিত হয়েছে। জেলার ২৬০০বর্গ কিলোমিটার জুড়ে মোট ২১হাজার ১৭টি বাড়ির ক্ষতি হয়েছে ৷ যার মধ্যে ৮৫২টি বাড়ি পুরোপুরি মাটিতে মিশে গেছে। ২২৬৩টি বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং ১৭ হাজার ৯০২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বলে জেলা প্রশাসনের হিসাব। প্রাথমিক হিসেবে জেলাতে চাষে ক্ষতি চারশো কোটি ৷

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সেখানে হাজির ছিলেন নির্বাচিত কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও। সেখানেই জানানো হয় জেলায় আমফানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৮৯জন। যার মধ্যে ৭১ হাজার ১৩৬জনকে ১৪১৮টি ত্রান শিবিরে তুলে আনতে হয়েছে। ৪৫হাজার ৭৬৩ জনকে উদ্ধার করে তাঁদের সুবিধা মত নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ঘরবাড়ি, রাস্তা,বিদ্যুত পরিষেবাতে সমস্যার হওয়ার সঙ্ংজঙ্গলের ভেতরে থাকা গাছও প্রচুর নষ্ট হয়েছেন৷ জঙ্গলের ভেতরে ইউপক্যালিপটাশ সহ বিভিন্ন রকমের গাছ পড়ে গিয়েছে ঝড়ে৷ মেদিনীপুর সদর ব্লকের খয়েরুল্লাচক, নয়াগ্রাম এলাকাতে বহু রকমের গাছ পড়ে গিয়েছে ৷ সেগুলি বনসুরক্ষা কমিটির মাধ্যমে কেটে গোছানোর চেষ্টা করছে বনদফতর৷

জেলায় ১৩৬৯টি জায়গা থেকে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলার ১টি দল ও ১৯৯জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন আছে দুর্গতদের সাহায্য করার জন্য। প্রায় ৩৫ হাজার নারী,পুরুষ, বৃদ্ধ বৃদ্ধা ও শিশুদের প্রয়োজন অনুসারে জামা কাপড় দেওয়া হয়েছে এবং ১৮হাজার মত তার্পোলিন সিট বিলি করা হয়েছে। জেলায় ২টি দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মোহনপুর ব্লকের বাগদা গ্রামে ১৭বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নবকুমার পাত্র এবং পিংলা ব্লকের রাউৎচকে রবীন পূর্তি নামে এক ২৭বছরের যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রাউৎচকে বৃহস্পতিবারই গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মত উভয় পরিবারই আড়াই লক্ষ টাকা করে সরকারি সহায়তা পাবেন। শুক্রবার মেদিনীপুর শহরের আবাস এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি খানিকটা ক্ষতিয়ে দেখে গরিবদের বেশ কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার ৷

Related Articles

Back to top button
Close