fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফান জের, সরানো হল সুন্দরবনের উপকূলের বাসিন্দাদের

বিশ্বজিত হালদার, কাকদ্বীপ:‌ মঙ্গলবার সকাল থেকে সুন্দরবন-‌সহ জেলার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। বেলা বাড়ার পর শুরু হয়েছে বৃষ্টি। দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে সুন্দরবন জুড়ে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। এদিন দিনভর নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী ও দ্বীপাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলার প্রায় এক লক্ষ মানুষকে স্কুল, ঘূর্ণিঝড় ত্রাণ কেন্দ্রে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমান বাড়তে শুরু করবে। বুধবার দুপুরের পর আমফান সুপার সাইক্লোন হয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে সুন্দরবনের ওপর। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনের ওপর। সেবার ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১০০ কিমির সামান্য বেশী।

এবার ঝড়ের গতিবেগ দেড়শ কিমির ওপরে থাকবে বলে আশঙ্কা হাওয়া অফিসের। সোমবার রাত থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক পি উলগানাথন কাকদ্বীপে আছেন। সুন্দরবনের পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি, মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা, সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা, উপকূল রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার অভিজিৎ দাশগুপ্ত-‌সহ বিডিও, আইসি, ওসিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলা শাসক। সেই বৈঠক থেকে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সমস্ত সরকারি দপ্তরকে নিয়ে সমন্বয় রেখে কাজের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দপ্তর, বিডিও অফিস ও পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়মিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা শাসকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার দায়িত্বে আছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার একাধিক দল ইতিমধ্যে জেলায় পৌঁছে গিয়েছে। প্রচার শুরু করে দিয়েছে বাহিনী। এছাড়া সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও প্রস্তুত আছে। বিপর্যয় পরবর্তী ত্রাণ ও পুর্নবাসন পরিকল্পনা তৈরী করে রেখেছে জেলা প্রশাসন। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন,‘‌ সরকারিভাবে উপকূলের বাসিন্দাদের তুলে আনা চলছে। এক লক্ষ মানুষকে তুলে আনা হবে। বিপর্যয় মোকাবিলায় সমস্ত সরকারি দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করছে।’‌

আরও পড়ুন: ২০২১ এর ট্রাম কার্ড হতে পারেন রাজ্যের ৫০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবার

সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঘোড়ামারা, মৌসুনি, ফ্রেজারগঞ্জ, সীতারামপুর, ব্রজবল্লভপুর। জল-‌জঙ্গলে ঘেরা এই দ্বীপাঞ্চলের মানুষদের পুলিশ বিভিন্ন স্কুলে তুলে নিয়ে এসেছে। জেলা জুড়ে প্রায় পাঁচশ ত্রাণ শিবির তৈরী করা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষকে তুলে আনা হবে। গতবছর নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় মানুষকে তুলে আনায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সেই অভিজ্ঞতায় এবারও মানুষকে তুলে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসক পি উলগানাথন এদিন পাথরপ্রতিমার ভগবতপুর এলাকার একটি ত্রাণ শিবির ঘুরে দেখেন। সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। ত্রাণ শিবিরগুলিতে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

করোনার জন্য সামাজিক বিধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। স্যানিটাইজ করা হয়েছে সব ত্রাণ শিবিরগুলি। ফ্রেজারগঞ্জের হাতিকর্নার এলাকার বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকার মানুষদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বকখালির হোটেলগুলিতে। প্রান্তিক মানুষগুলির সামান্য ঘর গেরগস্থালির জিনিসপত্র ও একরাশ আতঙ্ক চোখে মুখে মেখে চলে যাচ্ছে ত্রাণ শিবিরগুলিতে। এই ছবি গোটা সুন্দরবনের উপকূলের মানুষের।‌

Related Articles

Back to top button
Close