fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

৪০ দিন ধরে অসহায়দের পাশে গোপীবল্লভপুরের একদল যুবক

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : আমফানের দুর্যোগের দিনেও থেমে থাকেনি যুবকদের উদ্যম এবং পরিষেবা। শুধু নিজে বাঁচলে চলবেনা, অন্যদের জন্যও ভাবতে হবে। কোরোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে লকডাউনের সংকটকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরের একদল যুবক।

নিজেরা চাঁদা দেওয়ার পাশাপাশি, নিজেদের বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে টানা ৪০ দিন ধরে প্রতিদিন দুপুরে রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন সমস্যায় থাকা মানুষদের মুখে। আর যাঁদের উদ্যমে ও নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে এই কর্মসূচি, তাঁরা হলেন সত্যকাম পট্টনায়েক, কল্যাণ বারিক, সত্যরঞ্জন বারিক, সুব্রত সিংহ, শঙ্খ শ্যামল, প্রতীক দত্ত, জয়দেব দাস, কাজল দাস, সন্তু প্রধান, আকাশ দাস, অভিষেক পাল সহ অন্যান্যরা।

তাঁরা প্রতিদিন খাবার তুলে দিচ্ছেন গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরিজনদের, এলাকার ভিখারী ও ভবঘুরেদের, স্থানীয় এলাকার বেশ কিছু দুঃস্থ অসহায় মানুষদের। এরসাথে দিন দশেক হলো যুক্ত হয়েছে গ্রামে ফিরে স্থানীয় স্কুলে কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও তুলে দিচ্ছেন খাবার।

আবার এই নিয়মিত রুটিনের মধ্যে থাকা মানুষদের পাশাপাশি এঁরা অনেক সময় খাবার তুলে দিচ্ছেন এই এলাকার উপর দিয়ে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের মুখেও। প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন এই যুবকরা। কখনো সব্জি ভাত, কখনো ডিম ভাত, কখনো মাছ-মাংসও থাকছে মেনুতে। এঁদের বক্তব্য, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা একাজে এগিয়ে এসেছি। যতদিন সামর্থ হবে, ততদিন চালিয়ে যাবো।

যুবকদের এই উদ্যোগকে যেমন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে, তেমনি সাধুবাদ জানাচ্ছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরাও। অনেকেই, বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাতও। এভাবেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আমরদা গ্রামের যুবক দিব্যকান্তি ভূঞ্যা। রোগীর পরিজন, ভবঘুরে, স্থানীয় মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক মিলে প্রায় ৩৫০ জনকে খাওয়ানো হয়।

Related Articles

Back to top button
Close