fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ধেয়ে আসছে আমফান, প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শহরে, সরানো হল বিপজ্জনক বাড়ির, বাসিন্দাদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  সকাল থেকে মেঘলা আকাশ ছিল। যত বেলা গড়িয়েছে আকাশে মেঘের ঘনঘটা তত বেড়েছে। বেলা থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। ইতিমধ্যেই আমফানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শহরে। বিকেল বেলা কলকাতার বিভিন্ন স্থান থেকে ভালোরকম বৃষ্টির খবর মিলছে।  ঘূর্ণীঝড় আমফান বুধবার দুপুর কিংবা সন্ধ্যাবেলায় আছড়ে পড়ছে চলেছে সাগরদ্বীপের আশেপাশের এলাকায়। প্রায় ২০০কিমি বেগে সেই ঝড় আছড়ে পড়ার একঘন্টার মধ্যেই ছুঁয়ে ফেলবে কলকাতাকে। সেই সময়ে এর গতিবেগ থাকবে ১৩০কিমি প্রতি ঘন্টা। স্মরণঅতীত কালে কোনও ঝড় এই মারাত্মক বেগে কলকাতার ওপর দিয়ে বয়ে যায়নি। তাই শহর জুড়ে এদিন থেকেই সর্বাত্মক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম (২২৮৬১২১২/১৩১৩/১৪১৪) তৈরি আছে ২৪ ঘন্টা। বুধবার তো বটেই রাতেও থাকবেন প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। বিপর্যয় হবে ধরে নিযে প্রশাসকের আশ্বাস খুব দ্রুত শহর স্বাভাবিক করা হবে।বেশ কিছু মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার অধীনস্ত এলাকায় বিপদজনক বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা চালাচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার তেলেঙ্গাবাগান এলাকা সহ একাধিক এলাকায় যেখানে পুরনো বাড়ি রয়েছে সেখানে মাইকিং করে সাবধান করছে প্রশাসন। এদিন কলকাতা পুরসভার বিদায়ী বরো চেয়ারম্যান তথা বরো কো- অর্ডিনেটর অনিন্দ্য রাউত জানান, আগামী কালের মধ্যেই বিপদজনক বাড়ির বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। পুরসভার যে আশ্রয় স্থল বানানো হয়েছে সেখানে বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার ঘোষণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের বড় হোর্ডিং খুলতে নির্দেশ। ধারাল জিনিস খোলা অবস্থায় না রাখতে নির্দেশ লালবাজারের। পাশাপাশি রিভার ট্রাফিক পুলিশও নজরদারি চালাচ্ছে। বিভিন্ন গঙ্গা ধারে নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে কেউ গঙ্গার ধারে না যায়। একইসঙ্গে বুধবার কলকাতার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি বুধবার কলকাতায় বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে চালু রাখা হবে ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম। সেখানে ফোন করলে যে কোনও সহায়তা মিলবে। এই ঘূর্ণিঝড় রোধে বুধবার সারারাতে নবান্নে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন প্রশাসনের কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও নবান্নে রাত কাটাবেন বলেই খবর। সারাদিনই নবান্ন থেকেই পুরো রাজ্যের পরিস্থিতি সামলাবেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ সকলেই।

আরও পড়ুন: করোনা হাসপাতালগুলিতে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজ্যের কাছে তথ্য সহ ব্যাখ্যা তলব হাইকোর্টের

মঙ্গলবার বিকালের রেকর্ড বলছে, আমফান দিঘা থেকে ৬৩০ আর কলকাতা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে ছিল। বুধবার, দুপুরে রাতের দিকে বকখালির পূর্ব দিক দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে এই ঝড়। ‘ল্যান্ডফল’-এর সময়ে, তার সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে এদিন জানানো হয়েছে আম্ফানের নতুন আরও একটি চোখ দেখা গিয়েছে। সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড়ের ক্ষেত্রে যা বিরল। এই চোখকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে গরম হাওয়া। চোখটি প্রায় ১৫কিমি ব্যাসের। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রবল থেকে অতিপ্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় হয়েই সে পা রাখতে চলেছে মূল ভূ-খন্ডে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস এদিন সকালেই জানিয়েছেন, ‘বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ঝড় এগোচ্ছে। যদিও এটি সুপার সাইক্লোনই রয়েছে। তবে কাল অর্থাত্‍ সোমবার আমরা হিটিং পয়েন্টের গতিবেগ ১৯৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা দেখছিলাম। এখন সেটা কমে ১৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে।’ ঝড়ের আভ্যন্তরীণ গতি এখনও ২০০-২৩০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বলা জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। হিটিং পয়েন্টে গতি কমলেও এটি ভয়ঙ্কর গতির সুপার সাইক্লোনই থাকছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close