fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফান ত্রাণ দুর্নীতি কাণ্ডে সাসপেণ্ড ২৫ জন তৃণমূল নেতা

রাজকুমার আচার্য, নন্দীগ্রাম, (পূর্ব মেদিনীপুর):  বেশ কয়েকদিন ধরে আমফান দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল নন্দীগ্রাম। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও তৃণমূলের বহু নেতৃত্ব ও তাদের আত্মীয়রা ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় সারা নন্দীগ্রাম জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রায় ২০০ নেতা কর্মীকে শোকজ  করেছিল তৃণমূল। শোকজের জবাব পাওয়ার পর  বুধবার সাসপেণ্ড করা হল ২৫ জনকে।

 

একজন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, তিনজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং দলের দুজন অঞ্চল সভাপতি সহ ২৫ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শোকজের উত্তর পাওয়ার পর  বুধবার কোর কমিটির মিটিংয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেঘনাদ পাল। তিনি আরও বলেন যে, ইতিপূর্বে ৩ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মনসুরা বেগম এবং ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দলের সভাপতি পঙ্কজ দাস পদত্যাগ পত্র দিয়েছিলেন তা বুধবার গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রধানকে সরকারিভাবে বিডিওর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[আরও পড়ুন- চালকের তৎপরতায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা যাত্রী বোঝাই বাস]

গত বৃহস্পতিবার শোকজ করার পর থেকেই টাকা ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হয় নন্দীগ্রাম জুড়ে। নন্দীগ্রাম ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেঘনাদ পাল বলেন, ইতিমধ্যে  ৮৭ জন টাকা ফিরিয়েছেন। আরও ৫০ জন টাকা ফেরৎ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

সাসপেণ্ডের তালিকায় রয়েছে  নন্দীগ্রাম ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ১২ জন, যার মধ্যে ৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং ৯ জন নেতৃত্ব, ৩ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে ২ জন যার মধ্যে ১ জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং অন্যজন দলের নেতৃত্ব স্থানীয়, ৪নং গ্রাম পঞ্চায়েতে ১ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। ৭ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৪ জন, যার মধ্যে ৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং ১জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। আর ৯ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়  ৬ জন, যার মধ্যে ৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য, ১ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং ১ জন নেতৃত্ব স্থানীয়ও রয়েছেন।

[আরও পড়ুন- মালদার আইসি, পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী সহ সদর মহকুমা শাসকের করোনা পজিটিভ]

তৃণমূল ব্লক সভাপতির দাবি, এলাকার বিধায়ক, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অথবা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর মানুষের আস্থা আছে। নন্দীগ্রাম তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে স্থানীয় কিছু নেতার উপর মানুষের ক্ষোভ। দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েই দলের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমফান ত্রাণ নিয়ে একটি টিভি চ্যানেলে অনেকে নানা বক্তব্য দিচ্ছে শুনলাম। তারা আসলে নন্দীগ্রামে কখনও আসেনি, নন্দীগ্রামকে জানে না। এখনই ভোট হলে বিপুল ভোটে জিতবে তৃণমূল”।

 

নন্দীগ্রামের বাসিন্দা বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য শতদল বল বলেন, “আমফান ত্রাণে দুর্নীতিগ্রস্থদের তৃণমূল সাসপেণ্ড করল কী করল না সেটা বড় কথা নয়, আমরা চাই যারা দুর্নীতি করেছে তাদের আইনানুগ শাস্তি হোক। প্রকৃত সব ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।”

Related Articles

Back to top button
Close