fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফান: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আধিকারিকদের একদিনের বেতন দান করার নির্দেশ বিশ্বভারতীর

সৌরভ বড়াল, বীরভূম: আমফান-এর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত পশ্চিমবাংলার মানুষের জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। রবিবার বিশ্বভারতী তরফে সরকারি ওয়েবসাইটে একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে চলতি মাসের একদিনের বেতন কাটা হবে বিশ্বভারতীর আধিকারিক এবং স্থায়ী কর্মীরাদের বেতন থেকে। আর সেই একদিনের বেতন আগামী মাসের ৩ জুন তারিখের মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের নির্দিষ্ট একাউন্টে পৌঁছে দেয়া হবে।

 

বিশ্বভারতীর তরফে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে বিশ্বভারতীর আধিকারিক এবং অধ্যাপকদের যে রোজকার রয়েছে তাতে একদিনের বেতন দিয়ে রাজ্যের ওই বিধ্বস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোটা একান্ত কর্তব্য বলে মনে করে বিশ্বভারতী। যদিও বিশ্বভারতীর এই নির্দেশিকার সরাসরি বিরোধিতা না করলেও নির্দেশিকাটি বাধ্যতামূলক না করার দাবি তুলেছেন বিশ্বভারতী কর্মী আধিকারিকদের একটি সংগঠন VBUFA।

 

 

এই সংগঠনের তরফে সোমবার একটি মেল মারফত সাংবাদিকদের কাছে এই নির্দেশিকা বিরুদ্ধে কিছু দাবি তুলে ধরেন তারা। যেখানে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে রাজ্য তথা গোটা দেশজুড়ে কোন ভাইরাসের জন্য সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই কারণে বিভিন্ন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বিভিন্ন সময় সংগঠনের তরফে নানান ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংগঠনের তরফে। তাছাড়াও করোনা ভাইরাস এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ও সংগঠনের তরফে অর্থ সাহায্য পাঠানো হয়েছে। এই মুহূর্তে একদিকে করোনাভাইরাস এবং অন্যদিকে আমপানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সংগঠনের তরফে বিভিন্নভাবে অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যে অর্থসাহায্য সংগঠনের তরফে নির্দিষ্ট সরকারি জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

 

এদিন VBUFA সংগঠনের তরফে সংগঠনের সম্পাদক সমর কুমার সাহা জানিয়েছেন, “আমপানে বিধ্বস্ত দের সাহায্যার্থে বিশ্বভারতীর কর্মীদের একদিনের বেতন কেটে মুখ্যমন্ত্রী তহবিল পাঠানোর নির্দেশ করেছে বিশ্বভারতী তা পুনর্বিবেচনা করা হোক। আমাদের দাবি এই নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক না করার। কারণ আমরা সাংগঠনিকভাবে বিশ্বভারতীর কর্মী আধিকারিকরা বিভিন্ন ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি। এমতাবস্থায় আমপানের জন্যেও অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। বিশ্বভারতী এই নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনা করুক এবং কর্মী বা আধিকারিকদের একদিনের বেতন কাটা বাধ্যতামূলক না করার জন্য আমরা আবেদন করছি। কারণ যদি কেউ মনে করে একদিন দুদিন বা তার বেশি অথবা তার কম টাকা অর্থ সাহায্য দেবে সেটা মান্যতা দেওয়া উচিত। যে যেমন খুশি সামর্থমতো অর্থ সাহায্য করুক এটাই আমাদের দাবি।”

 

 

এর আগে করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউন এর সময় বিশ্বভারতীর তরফে এলাকার বৃদ্ধাশ্রম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর রাজ্যে আম পানের বিধ্বংসী অবস্থার পর নিজেদের একদিনের বেতন মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে দান করার উদ্যোগ নিল বিশ্বভারতী।

Related Articles

Back to top button
Close