fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফান উস্কে দিল ১৫৬ বছর আগে খেজুরি বন্দর, ডাকঘরের ধ্বংসলীলার স্মৃতি

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): করোনা-লকডাউন তারওপর আমফানে বিধ্বস্ত খেজুরি। আমফানের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে খেজুরিতে। ঝড়ের তান্ডবে উড়েছে বহু মানুষের মাথার ছাদটুকুও। ঘুর্ণিঝড় বুলবুল, ফণি, আয়লা দেখেছে খেজুরি। কিন্তু আমফানের তান্ডবলীলা মনে করিয়ে দিল ভয়াবহ খেজুরির ধ্বংসলীলার কথা। মনেপড়ে খেজুরি বন্দর, ডাকঘরের ধ্বংসলীলার শিউরে ওঠা ইতিহাস।

সালটি ছিল ১৮৬৪। ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ের গ্রাসে গিয়েছিল খেজুরি বন্দর। সেই ধ্বংসলীলার কারনে খেজুরি বন্দর এখন ইতিহাসের পাতায়। ১৫৬ বছর পরে খেজুরিতে ফিরল ১৮৬৪সালের দুর্দিনের স্মৃতি। ঘুর্ণিঝড় ও প্রবল জ্বলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়েছিল সেকালের খেজুরি। মহামারী নেমেছিল ইংরেজ আমলের খেজুরিজুড়ে। মৃত্যু হয়েছিল পোস্ট মাস্টারের।

খেজুরি বন্দরের সঙ্গে ভারতের প্রথম ডাকঘরটিও পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। ধ্বংসাত্মক ডাকঘরটির অংশ বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া খেজুরি ইতিহাস সংরক্ষণ সমিতির কর্তারা। কিন্তু সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আমফানের ফলে গাছ পড়েছে ঐতিহ্যের ডাকঘর, বাউটা মঞ্চের ওপরে। সুরক্ষিতভাবে গাছ সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন খেজুরি বনদপ্তরের আধিকারিক সৌরভ কর্মকার। প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৬৪ সালের প্রলয়ঙ্করি ঘুর্ণিঝড়ের দাপটে ধ্বংস হয়েছিল খেজুরি বন্দর, ডাকঘর, ডাক বাংলো, বাউটা মঞ্চ। আমফান তান্ডব সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিল খেজুরির ইতিহাস মনস্ক মানুষদের। খেজুরির ইতিহাস সংরক্ষণ সমিতির সহ-সম্পাদক ও শিক্ষক সুমননারায়ন বাকরা বলেন, ১৮৬৪সালে ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে ধ্বংস হয়েছিল খেজুরি বন্দর, ডাকঘর। তৎকালীন পোস্টমাস্টার মি. ডব্লিউ টি এর ছেলে বাটেলহো ডাকবাংলো থেকে বেরিয়েছিলেন। মি. ডব্লিউ টি ঘুর্ণিঝড়ে ছেলেকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। ঝড়ের দাপটেই প্রাণ গিয়েছিল মি. ডব্লিউ টি, ছেলে বাটেলহো এবং স্ত্রী মেরির। প্রবল জ্বলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ে ধ্বংস হয়েছিল খেজুরি বন্দর। ভেঙে পড়েছিল ডাকঘর, বাউটা মঞ্চ, বাতিঘর। তারপর থেকেই ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে খেজুরি বন্দর, ডাকঘর।

আমফান ধ্বংসাত্মক রুপে ছিল, প্রাণ যায়নি কারোর। তবে আমফানের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে খেজুরিতে। মাটির বাড়ি, আধা পাকা বাড়ি থেকে শুরু করে সব্জি বাগান, পান বাগান ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। এখনও বিদ্যুৎহীন গোটা খেজুরি। খেজুরি বনদপ্তরের উদ্যোগে পোস্ট অফিস চত্বরে গড়ে তোলা শিশু উদ্যানও গাছ পড়ে নষ্ট হয়েছে। প্রাচীণ বহু সুরক্ষিত গাছ পড়েছে বলেও বনদপ্তর সুত্রে জানাগিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৫৬ বছর আগের ঘুর্ণিঝড়ে খেজুরির ইতিহাস পালটেছিল। বর্তমান আমফান, করোনা, লকডাউন খেজুরিকে অভিশপ্ত করে তুলেছে। ব্যাহত খেজুরির দরিদ্র, কৃষক, ক্ষেতমজুরদের  জনজীবন।

Related Articles

Back to top button
Close