fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাকা ধানে মই দিয়েছে আমফান, মাথায় হাত গলসীর চাষীদের

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: করোনা আতঙ্কের মাঝেই উমফানের দাপট। পাকা ধানে মই দিয়েছে আমফান। ঝড় বৃষ্টিতে মাঠে নষ্ট বোরো ধান। মাঠ থেকে ধান তুলতে না পারায় মাথায় হাত পড়েছে শস্যগোলা পুর্ব বর্ধমানের গলসীর চাষীদের। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের চুড়ান্ত গাফিলাতি ও উদাসীনতার প্ররতিবাদে সরব ভারতীয় কিষান মোর্চা।

প্রসঙ্গত, চলতি মরশুমে গলসী-১ নং ব্লকে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি বরো ধানের চাষ হয়েছিল। সব থেকে বেশী চাষ হয়েছিল পারাজ, লোয়া- রামগোপালপুর, লোয়া -কৃষ্ণরামপুর, চাকতেঁতুল, শিড়রাই, উচ্চগ্রাম, পোতনা-পুরষা পঞ্চায়েত। গত ২৬ এপ্রিল রাজ্য কৃষি দফতর উম্পুনের সতর্কবার্তা জারি করে। এবং দ্রুত মাঠ থেকে চাষীদের ধান তোলার পরামর্শ দেয়। কিন্তু দফায় দফায় ঝড় বৃষ্টিতে পাকা ধানের মাঠে জল দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে মাঠ থেকে ধান তুলতে বিপাকে পড়ে। তার ওপর শ্রমিক সঙ্কট। পুর্ব বর্ধমানে মুলত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়খন্ডের জামতাড়া থেকে শ্রমিকরা চাষের কাজে আসে। লকডাউনে একরাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আসা যাওয়া দুর অস্ত, রাজ্যেই এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আসা যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে। সাঁড়াশি চাপে বিপাকে পড়ে চাষীরা।

আরও পড়ুন: ফের পরিযায়ী শ্রমিকের দেহে করোনার হদিশ, স্যানিটাইজ করা হল এলাকা

বুদবুদের বনগ্রামের প্রদ্যুত ঘোষ এবারে ১২ বিঘা জমি বোরো ধান চাষ করেছিল। তিনি জানান,” ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হয়েছিল। আশা ছিল ভাল মুনাফা আসবে। সরকারি সহযোগিতায় হার্ভেস্টিং মেশিন পাওয়া গেলে ধান তুলে নেওয়া সম্ভব হত। কিন্তু মাঠ থেকে ধান তুলতে পারলাম না। যেভাবে ধান নষ্ট হয়েছে, আর মাঠমুখো হতে ইচ্ছা করছে না।” আর এই মাঠ থেকে চাষীদের ধান না তুলতে পারায় রাজ্যের চুড়ান্ত গাফিলাতি ও উদাসীনতার দিকে আঙ্গুল তুলছে বিজেপির কিষান মোর্চা। ভারতীয় কিষান মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাশিষ সরকার জানান,” মাঠে জল। ধান পড়ে গেছে। উন্নত মানের হার্ভেষ্টিং মেশিন রাজ্যের পর্যাপ্ত নেই। শ্রমিক দিয়ে কাটতে হবে। চাষে র কাজে বেশীরভাগ শ্রমিক বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে আসে। ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো হল। অথচ রাজ্যের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় শ্রমিকদের চাষের কাজে সরকার আনার কোন উদ্যোগ নিল না। ওইসব শ্রমিকরা আসলে চাষীদের সর্বনাশ হত না।”

তিনি বলেন,” কয়েকদিন আগে পর পর দুদিন বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। তাতে প্রমান করে রাজ্য সরকারের অন্নদাতা চাষীদের কথা শোনার সময় নেই। চষীরা অবহেলার শিকার। প্রশাসনিক অদক্ষতার জন্য চাষ করেও সোনার ফসল চাষীরা মাঠ থেকে তুলতে পারল না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” যদিও গলসী-১ নং ব্লক কৃষি আধিকারিক অরিন্দম দানা জানান,” প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চাষীদের সমস্যার বিষয় জেলায় জানিয়েছি। ব্লকে ৯৫৪০ হেক্টর জমির ধান এখনও মাঠে রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close