fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শক্তিশালী বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে আম্ফান! বাংলা ও ওড়িশায় সর্তকতা জারি ,নবান্নে খোলা হল কন্ট্রোল রুম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাকে অভিমুখ করেই এগোচ্ছে আম্ফান। সোমবার সকাল ৮.৩০ নাগাদ তার অবস্থান ছিল দিঘা থেকে ৯৮০ কিমি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে। ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। মনে করা হচ্ছে বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এই সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে সাগরদ্বীপের মাটিতেই। ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে  বুধবারের মধ্যেই আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ফলে চূড়ান্ত সর্তকতা জারি হয়েছে ওড়িশার ১২টি জেলায়। রবিবার রাতে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার ওড়িশার ১২টি জেলাকে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে নবীন পট্টনায়কের সরকার এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় চরম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল। ওড়িশার ওই সমস্ত জেলাগুলির কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিকেই আপাতত সাইক্লোন শেল্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী ১৬-১৭ মে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি ১৭-১৮ মে মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং ১৯-২০ মে উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাষ অনুযায়ী, ১৮-২০ মের মধ্যে এই ঝড় উত্তর ওড়িশা উপকূলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। প্রথমে ৬৫ থেকে ৭৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইলেও পরে তা বেড়ে ৮৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা হবে। ক্রমে দক্ষিণপূর্ব দিকে এগিয়ে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ পশ্চিমে পৌছবে এই ঘূর্ণিঝড়। তখন তার গতি বেড়ে ৯০-১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা হবে। ক্রমে তা বেড়ে ১১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা হবে। এরপর ১৮ মে সকালে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে ঝড়ের গতি বেড়ে ১২৫-১৩৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা হবে। যা ক্রমে ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা হবে। বঙ্গোপসাগরের উত্তরে তার গতি বেড়ে ১৬০-১৭০ কিমি প্রতি ঘণ্টা থেকে ১৯০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় হবে ১৯ মে। ২০ মে সকালে আম্ফানের গতি ১৫৫-১৬৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা থেকে ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টার মধ্যে থাকবে।

আরও পড়ুন: একদিনে ৫ হাজার ২৪২ জন আক্রান্ত, দেশে আক্রান্ত প্রায় ৯৬,০০০

দেশের দুই রাজ্যের জন্য সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র। একটি ওড়িশা, অন্যটি বাংলা। কারণ সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় আম্ফান এই দুই রাজ্যের মধ্যে যে কোনও একটিতে আছড়ে পড়তে চলেছে। তবে বংলার পথে আসতে আসতে এই ঘূর্ণীঝড় মধ্য বা উত্তর ওড়িশাতেও ঢুকে পড়তে পারে। এইসব কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার এই দুই রাজ্যে মোট ১৭টি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ১০টিকে মোতায়েন করা হচ্ছে ওড়িশার ১০টি জেলায় ও বাকি ৭টিকে মোতায়েন করা হচ্ছে বাংলার ৬টি জেলায়।

জানা গিয়েছে বাংলায় যে ৭টি বিপর্যয় মোকাবিকা বাহিনী পাঠানো হচ্ছে তার মধ্যে ২টি বাহিনী রবিবার দুপুরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে পৌঁছে গিয়েছে। একটি দলকে রাখা হয়েছে সাগরে অন্যটিকে কাকদ্বীপে। বাকি পাঁচটি দল সোমবার দুপুরের মধ্যেই চলে আসছে বাংলায়। এদের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হবে। এই জেলাগুলি হল – উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলি জেলা। এই ৫টি জেলার প্রতিটিতে ১টি করে বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি বাহিনীতে থাকছে ৪৫জন করে সদস্য। তবে প্রয়োজন হলে বাংলা থেকে ওড়িশায় বা ওড়িশা থেকে বাংলায় বা একই রাজ্যের অন্য জেলায় এদের দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিল আনুক কেন্দ্র: ইয়েচুরি

দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের নীচু এলাকা থেকে সাধারন মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিষয়ে বৈঠকও হয়ে গিয়েছে।এদিন নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে, আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্য সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। উপকূলবর্তী জেলার জেলাশাসকদের পরিস্হিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নীচু এলাকাগুলিতে স্হানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমজনতাকে সচেতন করতে মাইকিংয়ের ব্যবস্হাও করা হয়েছে।

ওই সব উপকূলবর্তী ও নিচু এলাকা থেকে মানুষজনকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে আনার কাজ করা হচ্ছে। ওই সব এলাকায় যত ত্রাণশিবির খোলা হচ্ছে সবগুলিতেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে মাস্ক ও স্যানিটাইজারও।মৎস্যাজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমুদ্রে স্নানেও মানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই নির্দেশ ঠিকঠাক ভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা নজরদারির জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মঙ্গলবার থেকে সব ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই তিন জেলার দুর্বল নদীবাঁধগুলি চিহ্নিত করে দ্রুততার সঙ্গে তা মেরামতির কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে।সামগ্রিক পরিস্হিতির খবর নবান্নে্র বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কন্ট্রোলরুমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য নবান্নে খোলা রবিবার থেকেই ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা থাকছে

Related Articles

Back to top button
Close