fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় ফের সম্প্রীতির নজির, হিন্দু বৃদ্ধার সৎকার করলেন মুসলিম যুবকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদা: ফের মালদায় সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ল মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকেরা। গ্রামের একমাত্র হিন্দু পরিবারের বৃদ্ধার মৃত্যু সৎকার করলেন মুসলিমরা যুবকেরা। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে মোথাবাড়ি থানার পঞ্চনন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডালবক্সটোলা গ্রামে।

শনিবার পঞ্চনন্দপুরের ডালবক্সটোলা গ্রামের একমাত্র হিন্দু পরিবারের এক বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তার সৎকারের ব্যবস্থা করল মুসলিমরা যুবকেরা। মৃত বৃদ্ধার নাম অঞ্জলি সাহা (৬২)।

পঞ্চানন্দপুরের ডালবক্সটোলা গ্রামে শতাধিক মানুষের বাস। এরমধ্যে দুই থেকে তিনটি হিন্দু পরিবার রয়েছে । গত ৫০ বছর থেকেই এই গ্রামে বাস করতেন বীরেন সাহা এবং তাঁর স্ত্রী ও তার এক ছেলে রতন সাহা। গত বছর বীরেন সাহা মারা যান। শনিবার দুপুরে স্নান করতে গিয়ে নলকূপের কাছে পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করে হঠাৎই অঞ্জলি সাহার মৃত্যু হয়।চরম সংকটে পড়ে তার একমাত্র ছেলে রতন। ওই দিন লকডাউন ভেঙে কোন আত্মীয়-স্বজনের আশা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয় তার একমাত্র ছেলের।

বিষয়টি জানতে পেরে এগিয়ে আসে গ্রামবাসীদের একাংশ। ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য দাউদ ইসলাম সহ ছুটে আসেন গ্রামের যুবক বদরুদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াস শেখ, একরামুল হক, ইমরান আলী শামীম সহ ১৫—২০ জন মুসলিম যুবক। তারাই অঞ্জলি সাহার মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবস্থা করেন।

বাসের সঙ্গে করে মৃতদেহ পায়ে হেঁটে ওই রাতেই গ্রামবাসীরা নিয়ে যায় সাদুল্লাপুর শ্মশানে। এবং শবদেহ দাহ করার ব্যবস্থা করে গ্রামবাসীরা। শুধু তাই নয় এদেরই একজন বদরুদ্দিন আহমেদ নামে এক যুবক মৃত্যুর পর গঙ্গা থেকে জল এনে মৃত দেহের পিছন পিছন গঙ্গাজল ছিটাতে ছিটাতে শ্মশান পর্যন্ত যায়।

মৃত বৃদ্ধার ছেলে রতন সাহার বক্তব্য, আমরা দীর্ঘদিন থেকে থেকে এই গ্রামে বাস করছি। আমাদের আপদে-বিপদে গ্রামের সবাই পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ মায়ের মৃত্যুর পরে এই লক ডাউনের মধ্যে কিভাবে সৎকার করব সে সেটি নিয়ে আমি চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু গোটা গ্রামবাসী যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে আমার মাকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করল তা কোনদিন ভোলা যাবে না। ”

পঞ্চনন্দপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিজিয়া বিবি বলেন, “আমাদের অঞ্চলে আমরা সবাই একে অপরের সুখে-দুখে রয়েছি। এদিনের এই উদ্যোগ তার আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

Related Articles

Back to top button
Close