fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রবি ও বোরো চাষে সেচের জল মেলা নিয়ে পাঁচ জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল বর্ধমানে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রবি ও বোরো চাষে পর্যাপ্ত সেচের জল মিলবে কিনা তা নিয়ে চাষি মহলে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। সেই জল্পনার অবসান ঘটাতে সোমবার বর্ধমান সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক ।সেচে জন্য ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে হওয়া বৈঠকে পূর্ব বর্ধমান জেলা ছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান , হুগলী, হাওড়া ও বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও আধিকারিকরা উপস্থিত থাকেন। বৈঠকে ঠিক হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর থেকে রবি চাষে জল মিলবে ।আর ২৭ জানুয়ারী থেকে মিলবে বোরো চাষের জল। প্রশাসনের এই ঘোষনায় খুশি রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার চাষিরা ।

সেচ দপ্তরের সুপারিন্টেণ্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ পড়ুয়া জানিয়েছেন , “এবার মোট ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ফিট জল পাওয়া সম্ভব হবে । সেই জলে মোট ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০ একর জমি সেচসেবিত হতে পারবে।” পূর্ব বর্ধমান  জেলাপরিষদের সভাধীপতি শম্পা ধারা বলেন ,“ রবি ও বোরো চাষে সেচের জল মেলা নিয়ে চাষিদের মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এদিনের ঘোষনা থেকে অবসান হল সেই জল্পনার । সভাধীপতিও জানান, এই মরশুমে জেলায় মোট ৭৮ হাজার একরে জমিতে সেচের জল পাবেন চাষিরা। ২৬ ডিসেম্বর থেকে রবি চাষে সেচের জল ও ২৭ জানুয়ারী থেকে বোরো চাষে সেচের জল দেওয়া শুরু হবে । ”সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবি চাষের জন্য প্রায় একমাস কাল ধরে জল দেওয়া হবে ।টানা ৮ থেকে ১০ দিন জল দেবার পর মাঝে ১০ দিনের বিরতি নেওয়া হবে।জেলাশাসক এনাউর রহমান জানিয়েছেন,“চাষের সেচের জল এবারও গতবারের মতোই দেওয়া হবে। । ”

প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর জেলার গলসির রামগোপালপুরের চাষি সন্টু মণ্ডল , হরেকৃষ্ণ রায় প্রমুখরা বলেন ,এখন গলসির সব জায়গাতেই বোরোর বীজতলা তৈরির কাজ চলছে । পাম্প চালিয়ে বীজ তলায় জল দিতে হচ্ছে । বোরে চাষে সেচের জল পর্যাপ্ত মিলবে কিনা তা নিয়ে গলসীর চাষিরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন ।সেচের জল না মিললে বোরো চাষে সংকট দেখা দিত । চাষিরা চুড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়তেন। অন্যদিকে আউশগ্রামের নওয়াদার গ্রামের চাষি অশোক ঘোষ বলেন, বোরোর জল দেওয়া হবে এই কথা আগে থেকে ঘোষণা করা হলে ভালো হয়।কারণ চাষিরা জমিতে সর্ষে ও গম চাষ শুরু করেদেবার পর বোরোচাষের জন্য জল দেওয়া হলে সর্ষে ও গমের জমিতে জল ঢুকে চাষ নষ্ট হয়ে যায়।
আলিগ্রামের বাসিন্দা গৌতম রায় বলেন, খরিফে সাদা শীষ হয়ে যাওয়ায় ধানের ফলন একেবারে অর্ধেক হয়ে গেছে।এবার সেচের জল দিলে বোরো চাষ করে খানিকটা হলেও ক্ষতিপূরণ হবে বলে আশাকারা যায় । ভাতারের ওড়গ্রামের বাসিন্দা অসিত রায় বলেন বোরোচাষের জল দিলে তা পরিমাণ মত দিতে হবে।নাহলে উৎপাদন মার খায়।

Related Articles

Back to top button
Close