fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

আর কতদিন চলবে ওয়ার্ক ফর্ম হোম, আর কে সিনহা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এখন এটা কম-বেশি বোঝা গেছে যে আমাদের বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার সঙ্গে বাঁচতে শিখতে হবে। যতদিন না ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত এর থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। সুতরাং, কারখানা, অফিস চালু করা একান্ত প্রয়োজন।

মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়েছে। এগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী হবে না। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও ক্ষুদ্রশিল্পমন্ত্রী নীতিন গডকরিও বলেছেন যে সরকার সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে গণপরিবহন চালু করার জন্য দিশা নির্দেশ তৈরি করছে। তিনি জানিয়েছেন, “গণপরিবহনও শিগগিরই শুরু হতে পারে।” নীতিন গডকরি যা বলেছেন তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে সরকার আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার দিকে এগিয়ে চলেছে। অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনগুলিতে শর্ত সাপেক্ষে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গ্রিন জোনের ভিতরেও বাস চালানো হচ্ছে। ট্যাক্সি ও ক্যাবগুলিকেও ৪ মে থেকে সবুজ এবং কমলা জোনে চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটিতে ড্রাইভার ছাড়া একজন যাত্রী বসতে পারবে। এর অর্থ হল যে এখন অফিসগুলি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যাবে না।এগুলি খুলবে এবং খুলছেও।

রাজধানী দিল্লি ও মুম্বইতে বেশ কয়েকটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার অফিস, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম, প্রকাশনা গোষ্ঠীর কার্যাল়য়গুলো খুলতে শুরু করেছে। দিল্লির দরিয়াগঞ্জে বই ও স্টেশনারি দোকানও খুলে গিয়েছে। যদিও ক্রেতার সংখ্যা কম। স্টেশনারি পণ্যগুলি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এখান থেকে প্রতিবেশী রাজ্যের ক্রেতারাও পণ্য কিনে থাকেন।

এদিকে, সবাই জানে যে লকডাউনের মধ্যেও বহু সরকারি কার্যাল়গুলোতে স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, জল, ব্যাংকের মতো কার্যালয়গুলো।এখানে প্রতিদিন কাজ হচ্ছে। আমরা যদি ব্যাংক গুলির বিষয়ে কথা বলি তবে সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি কঠোরভাবে বজায় রেখে কাজ চলছে। যেহেতু ব্যাংকগুলিতে প্রতিদিন প্রচুর গ্রাহক আসে তাই ব্যাংকগুলি চার-পাঁচের বেশি লোককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এছাড়াও, প্রত্যেক ব্যাংকের কর্মীরা কাজের সময় মাস্ক এবং গ্লাভস পরে থাকেন। এখন কমবেশি সমস্ত কার্যাল়গুলো ধীরে ধীরে খোলা শুরু হবে।দেশের অর্থনীতিকে ট্র্যাকের দিকে ফিরিয়ে আনতে অফিস এবং কারখানাগুলিকে পুনরায় চালু করা দরকার। সুতরাং তাদের তালা খুলবে হবে। যদিও সংক্রমণ ছড়ানোর আগের দৃশ্য এখন আর দেখতে পাওয়া যাবে না। ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। এই কাজটি সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত পার্ক স্ট্রিট থানার অফিসার, কেপিসি হাসপাতালের তিন প্রসূতি, ইতিহাসের অধ্যাপক সহ ব্যাঙ্ককর্তা

বর্তমানে, যে কার্যালয়গুলি খোলা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও খোলা হতে চলেছে, তাদের অসুস্থ কর্মীদের বলা হবে যে তারা বাড়িতেই থাকুন। যাদের জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে তাদের উচিত অবিলম্বে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো।যে কর্মীরা সুস্থ আছেন, তবে তাদের পরিবারের কোনও সদস্য করোনায় আক্রান্ত, তাদেরও অফিসে আসা উচিত নয়।এর পাশাপাশি গুরুতর রোগে আক্রান্ত শ্রমিকরাও আপাতত অফিস থেকে দূরে থাকুন। এই সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা বিপদ এড়িয়ে চলতে পারব।

যারা অফিস খুলছেন তাদেরও দেখতে হবে যে এখানে কর্মরত কর্মীরা কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছেন।যদি কোনও বহিরাগত অফিসে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হবে। বলাই বাহুল্য যে কার্যালয়েগুলি খুলে গেলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এর ধারা শুরু হয়ে যাবে। প্রতিটি কার্যাল়য় গুলোতে রণকৌশল ঠিক করতে করার জন্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কৌশলগুলি কেবল সেই বৈঠকগুলির পরে গঠিত হয়। এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেই এই বৈঠকগুলি করা উচিত। প্রত্যেকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। এখন অবধি স্যানিটাইজারটি প্রতিটি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে, যাতে করে কর্মীরা নিজেদের হাত শোধন করতে পারে।

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়ী থেকে কাজ করা বা ওয়ার্ক ফর্ম হোমের সংস্কৃতি বাড়বে। এর বাইরে আর কোন বিকল্প নেই। বিশ্বজুড়ে এবং ভারতেও একটি নতুন কাজের সংস্কৃতি জন্মগ্রহণ করছে। যার বিকল্প কোনও উপায় নেই।

Related Articles

Back to top button
Close