fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা… আজ অযোধ্যায় ঐতিহাসিক পর্বের সূচনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। তার পরেই শুরু হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই ঐতিহাসিক পর্বের সূচনা। যার সাক্ষী থাকবে গোটা দেশের মানুষ। বলা যায় দীর্ঘ বাক-বিতন্ডা, রাজনৈতিক চাপান-উতোর সব কিছু্র আজ অবসান হতে চলেছে।

উৎসবে উচ্ছ্বাসে সেজে উঠেছে গোটা অযোধ্যা। চারিদিকে সাজো সাজো রব। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অযোধ্যায় সেই ভূমিপুজো মাহেন্দ্রক্ষণের শুভ সূচনা হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল ভূমিপুজোর প্রধান অতিথি।

বয়সের কারণে এই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত না থাকলেও এই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবেন রাম মন্দির আন্দোলনের মূল কাণ্ডারি লালকৃষ্ণ আদবানি ও মুরলী মনোহর যোশি। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রিতরা সব অযোধ্যায় উপস্থিত হয়ে গিয়েছেন। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একাধিকবার ঘুরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও।

হলুদ রঙে সেজে উঠেছে গোটা শহর। হলুদ রং শুভ হিসেবে মানা হয়। আর সেই কারণেই এই রংকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই অনেক কাটছাঁট করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের করা হয়েছে। এদিকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই বিশেষ মুহূর্তে সাক্ষী থাকার জন্য আমন্ত্রিতদের বসার আসনের মধ্যে ছয় ফুটের দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে।

এক নজরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরসূচী:

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নয়া দিল্লি থেকে রওনা দেবেন মোদি।
সকাল সাড়ে ১১টায় অযোধ্যায় পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রথমে হনুমানগড়ি দর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ৭ মিনিটের বেশি থাকবেন না তিনি।
এরপর শ্রী রাম জন্মভূমিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পুজো করবেন এবং ‘ভগবান শ্রী রামলালা বিরাজমান’ দর্শন করবেন।
তারপর পারিজাত চারাগাছ রোপণ করবেন এবং ভূমিপুজোয় যোগ দেবেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলক উন্মোচন করবেন মোদি এবং শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের পোস্টাল স্ট্যাম্প প্রকাশ করবেন।
দুপুর ২টো ২০ মিনিটে লখনউ ছাড়বেন মোদি।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাম মন্দিরের নতুন নকশা তৈরি হয়েছে। মন্দির দ্বিগুণ হতে চলেছে। প্রায় সওয়া দু একর জমির উপর গড়ে উঠছে রামলালার এই মন্দির। রামমন্দিরের উচ্চতা হবে ১৬১ ফুট। মন্দিরের আয়তন হবে লম্বায় লম্বায় ৩৬০ ফুট এবং চওড়ায় ২৩৫ ফুট। মোট ২.৭৭ একর জায়গা জুড়ে তৈরি হবে মন্দির। বাকি জায়গায়র একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে নানা ধরনের গাছ। মূলত যে ধরনের গাছ থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুত করা যায় সেগুলি লাগানো হবে।

মন্দির মোট ছ’ভাগে বিভক্ত থাকবে। মূল ধ্বজার নীচে থাকবে গর্ভগৃহ। যেখানে থাকবেন রামলালা। তার ঠিক সামনেই থাকবে গুড় মন্ডপ। প্রবেশের সময় রামলালার দিকে মুখ করলে গুড় মণ্ডপের বাঁদিকে থাকবে কীর্তন মণ্ডপ ও ডানদিকে থাকবে প্রার্থনা মণ্ডপ। গুড় মণ্ডপের সামনে থাকবে নৃত্য মণ্ডপ। মূল মন্দিরে যে মণ্ডপ দিয়ে প্রবেশ করতে হবে সেটাকে বলা হচ্ছে রঙ্গ মণ্ডপ। মোট পাঁচটি গম্বুজ নিয়ে তৈরি হচ্ছে মন্দির। ভিতরে স্তম্ভের সংখ্যাতেও এসেছে বিরাট বদল। নগর স্থপতিশৈলীতে তৈরি হবে মন্দির। যা মূলত উত্তর ভারতের মন্দিরের নকশায় দেখা যায়। জয়পুরের গোলাপি পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হবে রামমন্দির। সেখানে যা প্রাচীন হিন্দু সভ্যতা শোভা পাবে।

বলা যায় ১৯৯০ সালে যে আন্দোলন ও তার সঙ্গে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল ২০২০ সালে এসে।

 

Related Articles

Back to top button
Close