fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পড়ুয়াদের খাবার পাচারের সময় গ্ৰামবাসীদের হাতে আটক অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষিকা

অমিতাভ মণ্ডল, রায়দিঘি:‌ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ চাল, ছোলা বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে অভিভাবিকাদের হাতে আটক হলেন এক শিক্ষিকা। এই ঘটনার পর অভিভাবকরা ওই শিক্ষিকাকে আটকে রাখেন। পরে চাল, ছোলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রেখে বাড়ি ফিরে যান ওই শিক্ষিকা। পুরো ঘটনাটি প্রকল্পের সুপারভাইজারকে জানিয়েছেন এলাকার অভিভাবকরা। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মথুরাপুর-‌২ নম্বর ব্লকের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতে।

শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পড়ুয়ার সংখ্যা কম থাকলেও অতিরিক্ত পড়ুয়ার সংখ্যা দেখিয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত চাল, ছোলা, ডিম বাড়ি নিয়ে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই কাজ করছিলেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এদিন চাল অভিভাবকদের কাছে আটক হওয়ার পর নিজের দোষ স্বীকার করে নেন ওই শিক্ষিকা।

সূত্রের খবর, মথুরাপুর-‌২ নম্বর ব্লকের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৫১ নং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকা আরতী হালদার। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৪০ জন পড়ুয়ার নাম নথিভুক্ত আছে। হাজির হতো ৩০ জন। কিন্ত কেন্দ্রের রেজিস্ট্রারে প্রতিদিন ৪০ জন পড়ুয়ার হাজিরা দেখাতেন বলে জানা যায়। অনুপস্থিত ১০ জন পড়ুয়ার খাবার চাল, ছোলা, ডিম ওই শিক্ষিকা বাড়ি নিয়ে চলে যেতেন বলে অভিযোগ। সমগ্র বিষয়টি অভিভাবকদের নজরে আসে। ওই শিক্ষিকার ওপর নজর রাখতে শুরু করেন তাঁরা।

এদিন সকালে ওই শিক্ষিকা ৪০ কেজি চাল, ছোলা বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন অভিভাবকরা। এরপর উত্তেজিত অভিভাবকরা ওই শিক্ষিকাকে ঘেরাও করে রাখেন। এই খবর চাউর হতেই উত্তেজিত গ্রামবাসীরা এসে জড়ো হন ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে। খবর দেওয়া হয় সুপারভাইজারকে। কিন্তু সুপারভাইজার আসেন নিয। চুরির ঘটনাটা স্বীকার করে নেন ওই শিক্ষিকা। পরে চাল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রেখে দেবার পর ছাড়া পান ওই শিক্ষিকা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা প্রায়শই অনুপস্থিত পড়ুয়াদের উপস্থিতি দেখিয়ে তাদের বরাদ্দকৃত চাল, ছোলা ও ডিম বাড়িতে নিয়ে চলে যেতেন। এমনকি পড়ুয়া উপস্থিতির খাতায় নামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখা গেছে। আমরা সমস্ত বিষয়টি সুপারভাইজার কে জানিয়েছি। আমরা ওই শিক্ষিকার শাস্তি চাই। আর পড়ুয়াদের খাদ্য সামগ্রী চুরি বন্ধ হোক। শিক্ষিকা আরতি হালদার জানান, আমার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৪০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৩০ জনকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ জন পড়ুয়া খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত সামগ্রী খারাপ হয়ে যাবে বলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। মথুরাপুর-‌২ নম্বর ব্লকের বিডিও রেজওয়ান আহমেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close