fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় শাসক ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ, থাবা বসাচ্ছে বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের শাসক দলের উদাসীনতায় শাসক ঘনিষ্ঠ শিক্ষকরা বিজেপির পথে। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক মহলে বঞ্চনা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ। কার্যত বাম আমলের বঞ্চনার সুপ্ত বীজ তৃণমূল জমানায় মহিরুহে পরিণত হয়েছে। তাতে কি? ভোট শেষ। প্রতিশ্রুতি শেষ। আবার নতুন করে গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকদের বঞ্চনা শুরু। আসলে যে তিমিরে ছিল সেখানেই থেকে গেলো। পদ পরিবর্তন হলেও এত টুকু বদলাল না পরিস্থিতি। তাই এবার নিজেদের বঞ্চনা কাটিয়ে আধিকার আদায়ের জন্য বিজেপির পথে শাসক ঘনিষ্ঠ শিক্ষক। শুধু তাই নয় অন্যান্য শিক্ষক সংগঠন গুলিও এক ই ভাবে সুবিচারের আসায় হাত ধরতে চাইছে বিজেপির। আসলে দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুবিচার ইতিমধ্যেই দেখেছে গোটা দেশ। তাই নতুন করে সুবিচারের আলোয় আলোকিত হতে চাইছে গোটা শিক্ষক মহল।

গত ২২ জুন কলকাতা হাইকোর্টে একটি অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠনের করা মামলা ও তার রায়ে বঞ্চনার বিষয়টি স্বীকৃত। বেতন কমিশনকে স্পষ্টভাবে রাজ্যের গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকদের বেতন কাঠামো স্থির করার নির্দেশ দেওয়া স্ব্ত্তেয়, বারেবারে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ওই সংগঠনের নেতাদের সাক্ষাৎ, শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কোনও কিছুই এ রাজ্যে একজন স্নাতকোত্তর এবং স্নাতক পাশ গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষক এর মধ্যে বেতনের ন্যায্য ফারাক গড়ে তুলতে পারেনি।
পাশ গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের বেসিকের পার্থক্য ২৭০০ টাকার র মধ্যে বেঁধে রাখতে পারেনি। বরং তা সম্পুর্ণ বেয়াইনিভাবে ৯২০০ টাকার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে এবারের রাজ্য পে কমিশনের সিদ্ধান্তে।

প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকদের অধিকাংশের ভেতরে এই ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। কিন্তু এবারে সেই ক্ষোভের শিখা চরমে পৌছাল তৃণমূল ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠনের অন্দরে।
সম্প্রতি ঝাড়্গ্রাম জেলার প্রচুর শিক্ষক শিক্ষিকার সরাসরি বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠনে যোগদান তারই প্রমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষক বলেই ফেললেন, ” শাসক দলের রোষের মুখে পড়তে হবে বলে,এই বিষয়ে কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও, গ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষকদের বেতন বঞ্চনা নিরসন না করার অপরাধে তৃণমূল শিক্ষা সেলের প্রতি রাগ, অভিমান ও ক্ষোভের ফল সরাসরি ভোটবাক্সে পড়বে এ ব্যাপারে নিশ্চিত।”সংগে তিনি যোগ করেন,” আর ঠিক এই কারণেই বিজেপির প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে। আর বিজেপিও সুকৌশলে এই সুযোগের পূর্ণ ব্যাবহার করে সংগঠনের জাল বিস্তার করছে সারা রাজ্যে।”

অন্য আর এক শিক্ষকের বক্তব্য, “হাইকোর্টের রায়কে সরকার নস্যাৎ করেনি, আবার সদর্থক পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি। এ থেকে পরিষ্কার বিগত বাম সরকারের ন্যায়, এই সরকারও গ্র‍্যাজুয়েট টিচার্স দের সংগে বঞ্চনা জিইয়ে রেখেই ভোট পার করতে চায়।আর এ ব্যাপারে তৃণমূল শিক্ষা সেল যেভাবে মুখে কুলুপ এঁটেছে,তাতে করে সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারে সন্দেহ উত্তরোত্তর বাড়ছে।তবে সরকারের,এবং তৃণমূল শিক্ষা সেল এর মনে রাখা উচিৎ শুধু ১ লক্ষ ২০ হাজার শিক্ষকই নন,তাঁদের পরিবারের লোকজনও কিন্তু ভোট দেবেন।”

Related Articles

Back to top button
Close