fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

সংসদেও প্রশ্ন করার অধিকার হারাচ্ছে বিরোধীরা! বাদল অধিবেশনে ‘‌প্রশ্ন পর্ব’‌ বাদ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতি জেরে অধিবেশনের সময় কমাতে মরিয়া সরকার। সময় কমাতে গিয়ে কোপ পড়ল সংসদে বিরোধীদের ক্ষমতার উপর। এবার থাকছে না প্রশ্নোত্তর পর্ব। জিরো আওয়ারেও কাঁচি করা হচ্ছে। এই দুটি ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি বিরোধীরা তাঁদের মতামত রাখতে পারেন। সংসদ অধিবেশনের প্রথম ঘণ্টা বরাদ্দ থাকে ‘‌কোয়েশ্চেন আওয়ার’‌ হিসেবে। ১৯৫০ সাল থেকে এই প্রথম?‌ সংসদের মোট সময় একই রয়েছে, তাহলে কোয়েশ্চেন আওয়ার বাতিল করা হল কেন?‌ মহামারীর দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রের খুন করা হল।’‌

লকডাউনের আগে বন্ধ হয়েছিল সংসদ । করোনার জেরে তারপর আর অধিবেশনের কথা ভাবাও যায়নি। সরকারের যাবতীয় কাজকর্ম চলছে ভারচুয়ালি। সংসদীয় কমিটির বৈঠকগুলিও হয়েছে অনলাইনেই। কিন্তু এবার আর ভারচুয়াল নয়, অ্যাকচুয়াল সংসদ খুলছে কেন্দ্র। তবে বেশ কিছু সতর্কতা মেনে। করোনা বিধি মানতে গিয়ে চিরাচারিত কিছু প্রথা এবার বাদ দিতে হচ্ছে। রাজ্যসভার সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যসভা এবং লোকসভা অধিবেশন একসঙ্গে চলবে না। আলাদা আলাদা সময়ে মাত্র ৪ ঘণ্টা করে দুই কক্ষের অধিবেশন বসানো হবে। প্রথমে বসবে রাজ্যসভা অধিবেশন। তারপর বসবে লোকসভা অধিবেশন। সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজ্যসভা অধিবেশন বসবে। রাজ্যসভা মিটলে বিকেল ৪টের পর আবার শুরু হবে লোকসভা অধিবেশন। চলবে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে অধিবেশন। প্রথম দিন অবশ্য সকালে লোকসভা বসবে এবং বিকেলে রাজ্যসভার অধিবেশন বসবে। জানা যাচ্ছে, সাংসদরা সামাজিক দূরত্ব মেনে দুই কক্ষেই বসতে পারবেন। দুই কক্ষে বসানো হবে জায়ান্ট স্ক্রিন।

এই অধিবেশন প্রাইভেট মেম্বার্স’‌ বিজনেস-এর জন্যও সময় বরাদ্দ করা হয়নি। অর্থাত্‍ যে সময় মন্ত্রী ছাড়া অন্য সাংসদরা কোনও ব্যক্তিগত বিল বা রেজোলিউশন আনতে পারেন। জিরো আওয়ার থাকবে। যেখানে পার্লামেন্টের সদস্যরা জনসাধারণের সমস্যার কথা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু সেই সময়েও কাটছাঁট করা হয়েছে। বাদল অধিবেশনে জিরো আওয়ারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ মিনিট।

প্রশ্ন উঠছে অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রশ্নোত্তর পর্ব কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য বিরোধীদের প্রশ্ন জমা দিতে হয় ১৫ দিন আগে। বিরোধীদের প্রশ্নের ভিত্তিতে উত্তরমালা তৈরি করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তবে, সংসদে বিরোধীদের প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার পর, যদি পাল্টা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, তখন মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক প্রস্তুত থাকেন মন্ত্রীর উত্তরে তথ্য জোগানে। অর্থাত্ প্রশ্নোত্তর পর্বের দিনে গ্যারিতে হাজির থাকেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আমলারা। ভিড় কমাতেই প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উল্লেখ্য এখনও পর্যন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য প্রশ্ন জমা দেওয়ার কোনও বিজ্ঞপ্তি সরকারের তরফে জারি করা হয়নি।

আরও পড়ুন: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টুইটে শোকজ্ঞাপন

এসময় বিরোধীরা সরকারকে প্রশ্ন করেন। এবার সেটাই বাদ। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, বিরোধীদের প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে সরকার। সংসদের অন্যান্য কাজ একই রয়েছে শুধুমাত্র প্রশ্নোত্তর পর্ব বাদ দেওয়া হচ্ছে। করোনার দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জিরো আওয়ারের সময়সীমা কমিয়ে ৩০ মিনিট করা হয়েছে। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দেন কংগ্রেসের লোকসভা দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি চিঠিতে লেখেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ারে দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পান বিরোধীরা। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি। সরকার শুধুমাত্র নিজেদের এজেন্ডার বিল পাশ করিয়ে নেওয়ার জন্য এই অধিবেশন আয়োজন করেছে বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।

কয়েক জন বিরোধী নেতা জানিয়েছে, রাজনাথ সিং নাকি বলেছেন কোয়েশ্চেন আওয়ার রাখা হলে মন্ত্রী, সরকার পক্ষের সাংসদদের প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য উদ্দিষ্ট মন্ত্রকের আমলা, কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় মন্ত্রীদের। এর ফলে সংসদে লোক সমাগম বেড়ে যায়। তা এড়ানোর জন্যই কোভিড আবদে কোয়েশ্চেন আওয়ার নাকি বাতিল করা হচ্ছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close