fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রীর রাম ফোবিয়া! অযোধ্যায় মন্দির শিলান্যাসের দিনে লকডাউনে ক্ষুব্ধ ভিএইচপি 

রক্তিম দাশ, কলকাতা: অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিন আগামী ৫ আগস্ট বাংলায় লকডাউন ঘোষণার মমতা সরকারের উপর বেজায় চটেছে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। এঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাম ফোবিয়ায় ভুগছেন! বলে দাবি করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।মঙ্গলবারই নবান্ন থেকে আগস্ট মাসের লকডাউনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এই তালিকা দেখা যাচ্ছে, অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিনটি ৫ আগস্ট সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা জুড়ে সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। আর এরপরেই বাংলার হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ওই দিনটিতে লকডাউনের বিরোধিতায় সরব হয়েছে।রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিন লকডাউনকে তোষণ রাজনীতির ফল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রিয় সম্পাদক অমিয় সরকার। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার বা ইদের দিন তো লকডাউন রাখা হয়নি। একটা সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে রামমন্দিরের শিলান্যাসের দিনটিকে বেঁছে নেওয়া হয়েছে। এই দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্বের হিন্দু সমাজ। এটা বাংলার হিন্দুদের প্রতি অবিচার। মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আসলে উনি রাম ফোবিয়ায় ভূগছেন অনেকদিন থেকেই। জয় শ্রীরাম বললেই তেড়েও গিয়েছেন তা বাংলার মানুষ বহুবার টিভিতে দেখেছেন।’অমিয়বাবুর দাবি, ‘এর ফল মুখ্যমন্ত্রীকে পেতে হবে। সামনে ২০২১ আসছে। এটা যেন উনি ভুলে না যান।’

আরও পড়ুন: বাড়ির টিনের চাল থেকে উদ্ধার নরকঙ্কাল! চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

হিন্দু সংহতির সর্বভারতীয় সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘অযোধ্যার রামমন্দির হিন্দুদের আবেগের প্রতীক। প্রত্যেক শুক্রবার, বিশেষত ইদের দিন আনলক রেখে ৫আগস্ট লকডাউন ঘোষণা করে এই সরকার সরাসরি হিন্দুদের আবেগে আঘাত করেছে। এটা ঠিক তোষণ নয়, এটা তোষণের পরবর্তী পর্যায়। তৃণমূলের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে তাদের শত্রুতা হল বিজেপির সঙ্গে, ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের সঙ্গে নয়, এমনকি রামভক্ত হিন্দুদের সঙ্গেও নয়। তোষণ পরবর্তী এই পর্যায়ে তৃণমূল দলটা ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিরুদ্ধেই যেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই দলটা এখন, হিন্দুর শত্রু হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করে ফেলছে। এই হিন্দু বিরোধী পরিচয় ঝেড়ে ফেলতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, সেটাও খুব কম সময়ে। আর উনি এবং ওনার দল যদি বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে গোটা হিন্দু সমাজের বিরোধী অবস্থান থেকে সরে না আসতে পারে তবে ২০২১ –এ মহাবিপর্যয় সুনিশ্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে রাখা উচিৎ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক এখনও হিন্দুরাই। হিন্দুর আবেগকে আহত করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

আরও পড়ুন:মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় গভীর রাতে টালিগঞ্জে দুষ্কৃতী তাণ্ডব!

’বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে এদিন বলেন,‘ এই শিলান্যাসের দিনটি আগে থেকেই ঠিক ছিল। তাহলে এদিনে কেন লকডাউন ঘোষণা হল? সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে চলেছে ৫ আগস্ট। সেদিনে লকডাউন আসলে চক্রান্ত। আমাদের হিন্দুদের অপমান করা হল। আমরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যে কর্মসূচি ছিল তা বহাল রাখছি।

আরও পড়ুন:ঈদের দিন লকডাউন না হলে কেন রামমন্দিরের ভূমিপুজোর দিন লকডাউন থাকবে: রাহুল সিনহা

সামাজিক দূরত্ব মেনে বিভিন্ন মঠ-মন্দির এবং বাড়িতে জপ, পুজোর চলবে। আমরা টিভিতে এই অনুষ্ঠান সরাসরি দেখব। এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে প্রতিটি বাড়িতে।যোগী সেনার রাজ্য যুবমোর্চার সভাপতি দিবাকর দেবনাথ বলেন,‘ এই দিনটি নিয়ে রাজনীতি করা হল। রামমন্দির গড়ে তোলার আন্দোলন দীর্ঘদিনের। অনেকেই আছেন যাঁরা এর শেষ দেখে যেতে পারেননি। আমরা বর্তমান প্রজন্ম সেটা দেখতে চলেছি। করোনা আবহে আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘরে বসেই পুজো পাঠ করব আগেই ঠিক আছে। লকডাউন না থাকলেও আমরা তাই করতাম। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা হল কেন? যোগী সেনার এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

Related Articles

Back to top button
Close