fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে এই প্রথম চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমে অঞ্জলি ও দশমীর সিঁদুর খেলা হবে না

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা:  করোনা আবহে এই প্রথম চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের কুমারী পুজো ছাড়াও অষ্টমীতে অঞ্জলি ও দশমীর সিঁদুর খেলা হবে না।  প্রতিবছর কুমারী পুজোকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে অষ্টমীর দিন সকাল থেকেই ভক্ত দের ভিড় উপচে পড়ে।  এবছর  অনেক আগে থেকেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। পাশাপাশি এবছর কুমারী রূপে কাকে পুজো করা হবে সেটাও ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু  অষ্টমীতে মন্দিরে ভিড় কমাতে বাতিল করা হয়েছে কুমারী পুজো।

কোনওরকম চাঁদা তুলে নয়, কার্যত ভক্তদের দানেই চৌধুরীহাট শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের দুর্গা পুজো হয়ে আসছে। এই পুজো মহকুমাবাসীর কাছে অন্য এক মাত্রা এনে দেয়। দিনহাটা দুই ব্লকের সীমান্ত গ্রাম চৌধুরীহাটে রামকৃষ্ণ আশ্রমের পুজোয় প্রতিমায় যেমন নেই কোনও বৈচিত্র তেমনি নেই বাহারি আলোকসজ্জা। পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা, কোচবিহার ও কামাখ্যাগুড়ির তিন পুরহিত। এরা হলেন দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণ চক্রবর্তী ও চন্দন ভট্টাচার্য। আশ্রমের এই পুজো উপলক্ষ্যে রাজ্যের এবং রাজ্যের বাইরে থেকেও প্রতি বছর বহু মানুষ এখানে আসেন বলেও উদ্যোক্তারা জানান। করোনা আবহে ভিড় কমাতে কুমারী পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

[আরও পড়ুন- বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের গালিগালাজ, মারধরের অভিযোগ দিনহাটা থানার সাব-ইন্সপেক্টর এর বিরুদ্ধে]

এবছর করোনা আবহে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে পুজো হচ্ছে। তাই আগে থেকেই মন্দিরের সামনে ব্যানার দিয়ে কি কি করা হবে এবং কি কি বিধিনিষেধ রয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। এবছর মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অঞ্জলির পাশাপাশি সিঁদুর খেলা বন্ধ রাখায় মন খারাপ এলাকার মহিলাদেরও। তবে করোনা কাটাকে উৎখাত করে আগামী বছর পুজোর আনন্দ ও সিঁদুর খেলবেন বলেও এলাকার মহিলারা  জানান।  প্রতিবছর এই পুজো মহকুমাবাসীর কাছে আলাদা এক মাত্রা পায়। এবার মন্দিরে ভিড় কমাতেই কুমারী পুজো বাতিলের পাশাপাশি অষ্টমীতে অঞ্জলি এবং দশমীতে মহিলাদের সিঁদুর খেলা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আশ্রম কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্দিরে পুজো হয়ে আসছে। এবছর করোনা আবহে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোনওভাবেই যাতে পুজোর চারদিন ভিড় না হয় তাই অঞ্জলি হবে না। সিঁদুর খেলা যাবে না। যারা মন্দিরে মূর্তি দর্শন করতে আসবেন তাদের মাস্ক ছাড়া মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষেধ। মন্দিরে ভিড় কমাতে, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চলা হবে। তাই আগে থেকেই ব্যানার দিয়ে সকলকে সচেতন করা হচ্ছে।

আশ্রম কমিটির সম্পাদক স্বামী সেবানন্দ জি মহারাজ বলেন, বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্দিরে পুজো হয়ে আসছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এই পুজো হয়ে থাকে। পুজোর বৈশিষ্ট্য পুজোর তিন দিন সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে চাল কুমড়া, শশা, আপেল, আখ, কাঁচাকলা প্রভৃতি বলি হয়ে থাকে। অষ্টমীতে কুমারী পুজো অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পুজোর চারদিন বিশেষ করে অষ্টমীতে কুমারী পুজোর পর কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এবছর করোনা আবহে কুমারী পুজো  হচ্ছে না। তেমনি  প্রসাদ বিতরণের ক্ষেত্রে মন্দিরে ভিড় কমাতে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close