fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্বাস্থ্য কর্মীদের আন্দোলন ঘিরে শাসক বিরোধী তরজা শিলিগুড়িতে

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি :  শিলিগুড়ি পুরনিগমের স্বাস্থ্য কর্মীদের আন্দোলন  ঘিরে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম শিলিগুড়ি পুরনিগম। সোমবার ছয়দফা দাবী জানিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমে বিক্ষোভ দেখায় দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা। তাদের অভিযোগ তারা জুলাই মাসের বেতন সাত তারিখে পাওয়ায় কথা থাকলেও এখনও পাননি। বেতন দাবী সহ একাধিক দাবীতে তারা সরব হন।
 সোমবার শিলিগুড়ি পুরনিগমে দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য কর্মী ইউনিয়নের তরফে একটি মিছিল করে পুরনিগমে এসে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এফটিএসদের এইচএসডব্লিউ প্রকল্পে যুক্ত করার দাবী সহ অবিলম্বে বকেয়া বেতন প্রদানের দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাদের অভিযোগ জুলাই মাসের বেতন ৭ তারিখের মধ্যে পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও বেতন দেওয়া হয় নি। তারা জানান এই জেলায় মোট এফটিএসে ৩৬ জন কর্মী রয়েছেন ও এইচএসডব্লিউতে রয়েছেন২২৪ জন কর্মী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিলিগুড়ি পুরনিগমে ৪৭ টি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার সার্ভে করছেন। পুরনিগম থেকে এরজন্য ১০০ টাকা ও রাজ্য সরকারের তরফে ১ হাজার উৎসাহ ভাতা প্রদান করার কথা তাও তারা পান নি।
আগামী সাতদিনের মধ্যে বকেয়া অর্থ না পেলে বৃহত্তর আন্দোলন সহ অনশনের পথে হাটার হুমকি দেন তারা। এদিকে স্বাস্থ্য কর্মীদের বকেয়া অর্থ পাওয়া ঘিরে শিলিগুড়ি পুরনিগমে ফের শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে।  পুরনিগমে রাক্য সরকারা থেকে টাকা পড়ে থাকলেও ইচ্ছে করে অর্থনৈতিক সংকট তৈরী করে  অর্থনৈতিকভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন  বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার। তার আরও অভিযোগ, পুরনিগমে প্রায় সাতশ কর্মী অবৈধ ভাবে নিয়োগ করেছে বাম পুরবোর্ড। তাদের  মাইনে বাড়ানো হচ্ছে।  অথচ পুরনিগমের স্বাস্ত্য কর্মী সহ অন্যান্য কর্মী  যারা কাজ করে চলেছে পুরনিগমে  তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে তাদের ওপরে বারবার চাপ সৃষ্টি করা হয়।
স্বাস্থ্য কর্মীদের বকেয়া অর্থ পাওয়া প্রসঙ্গে  পুরনিগমের ব্যর্থতাকে দায়ী করলেন তিনি। অবিলম্ব স্বার্থ কর্মীদের বেতন দেওয়া সহ যে অর্থ পুরনিগমে পড়ে রয়েছে তার সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরার দাবী জানান। অন্যদিকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য তথা পুরনিগমের প্রাক্তন স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষ, বলেন সুডা থেকে প্রকৃয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্য কর্মীদের টাকাগুলো আসে কোনো কারনে এ মাসে তা আসতে দেরী করছে। পুরনিগমে টাকা এসে পড়ে আছে বলে রজন সরকারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার কটাক্ষ, বিরোধী দলনেতার তথ্যগুলো  ভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  তিনি প্রশাসক মন্ডলীকে ছোট করে হয়তো তার দাম বাড়াতে চান। কিন্তু এরকম ভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে দাম বাড়ে না সেটা হাস্যস্পদ হয়ে ওঠে।
তিনি জানান প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য সুডাকে চিঠি করেছেন। আমাদের  দায়িত্বটা আমরা পালন করেছি রাজ্যের দায়িত্ব সেটা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন এই সময়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে কাজ করেছেন। তার জন্য সারা রাজ্য তাদের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে তাদের বেতন টা যাতে সময় মতো পায় সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ নেবে এটাই আশা করি।

Related Articles

Back to top button
Close