fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

আর্মেনিয়া–আজারবাইজানের সংঘাত বন্ধের আহ্বান আন্তোনিও গুতেরেসের

নিউইয়র্ক, (সংবাদ সংস্থা): আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যেকার সংঘর্ষ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তিনি অবিলম্বে উভয় পক্ষকে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তেজনা প্রশমন এবং কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই অর্থপূর্ণ আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।’

 

এদিকে, আর্মেনিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতে আজারবাইজানকে পরিপূর্ণ সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। একইসঙ্গে নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজানের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় আর্মেনিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে আংকারা। তবে, সমস্যা সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

                আরও পড়ুন: ১০ বছর কোনও আয়কর দেননি ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস

সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দিনেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের সামরিক বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর চলমান এই লড়াইয়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ও আরও শতাধিক আহত হয়েছে। গতকালও দুই দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যাচ্ছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্মেনীয় সরকার সামরিক আইন জারি করে নিজ জনগণকে দেশ রক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেছে। আর্মেনিয়া দাবি করেছে, আজারবাইজান প্রথমে বিমান ও কামান দিয়ে হামলা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা সামরিকভাবে এর জবাব দেওয়া শুরু করেছে এবং সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে হামলার জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছে। অপরদিকে আজারবাইজান পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চারদিক থেকে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণের জবাব দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, নাগোরনো কারাবাখ নামে বিতর্কিত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুসলিম আজারবাইজান এবং খ্রিস্টান সংখ্যাগুরু আর্মেনিয়ার মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। উভয় দেশই সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তারা দু’টি স্বাধীন দেশে পরিণত হয়। তথ্য বলছে, কারাবাখ অঞ্চল আজারবাইজানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে জাতিগত আর্মেনিয়রা ১৯৮০ সালের দিক থেকে এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ১৯৯৪ সালে অস্ত্রবিরতি স্বাক্ষরের আগ দুই দেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হন। জানা যাচ্ছে, বিতর্কিত অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হলেও সেখানকার জনসংখ্যার সিংহভাগই জাতিগতভাবে আর্মেনিয়, আর সেটাই সমস্যার মূলে।

Related Articles

Back to top button
Close