fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঋণের ২০ লক্ষ টাকা ফেরৎ চেয়ে না পেয়ে অনুব্রতকে প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেফতার বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান:  ঋণের ২০ লক্ষ টাকা ফেরৎ চেয়েও পাননি। এইকারণে বীরভূম জেলা তৃণমূলের  সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। তিনি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং গুসকরা পৌরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই নিত্যানন্দবাবু দলের হয়ে নেতৃত্ব দিয়ে  আসছেন। অনুব্রতকে হুমকি দিয়ে এহেন এক তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ,অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে গুসকরা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাচান্দা নিবাসী অনুব্রতর অনুরাগী সেখ সুজাউদ্দিন গুসকরা ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ মঙ্গলবার বেলায় গুসকরা স্কুলমোড় এলাকা থেকে  নিত্যানন্দবাবুকে গ্রেফতার করে। এদিনই পুলিশ তাঁকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। সিজেএম  ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে  ২৫ সেপ্টেম্বর ফের তাঁকে আদালতে পেশের নির্দেশ  দিয়েছেন।

[আরও পড়ুন- জঙ্গলমহল নিয়ে রাজনীতি করছেন দিদি অভিযোগ দিলীপ ঘোষের]

গ্রেফতার হওয়ার পর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা দলের পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামে পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডলকে কার্যত তুলোধোনা করেন। অনুব্রত মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি দেবার কথা স্বীকার করেনিয়ে নিত্যানন্দবাবু  সাংবাদ মাধ্যমকে বলেন ,“অনব্রতর মণ্ডলের স্ত্রী যখন অসুস্থ ছিল তখন অনব্রত তাঁর কাছে ২০ লক্ষ টাকা ধার চায়। নিত্যানন্দবাবু বলেন, অনুব্রত একাধিকবার তাঁকে ফোন করে সেই টাকা তাঁর কাছে চেয়েছিলেন। তিনি সেই টাকা অনুব্রতকে দিয়েছিলেন। টাকা নেওয়ার সময়ে অনুব্রত বলেছিল ৩-৪ মাসের মধ্যে টাকা শোধ করে দেবে। কিন্তু এখন অনুব্রত টাকা ফেরৎ দিতে  চাইছে না। উল্টে অনুব্রত এখন টাকা ধার নেওয়ার কথাই অস্বীকার করছে।

পাল্টা অভিযোগ এনে নিত্যানন্দবাবু বলেন, অনুব্রতর হাতে পুলিশ আছে তাই আমায় গ্রেফতার করা হল। অথচ কয়েকদিন আগে রাত ১২ টায় আমায় ফোন করে অরুপ মিদ্দা খুনের হুমকি দিল। আমি থানায় এফআইআর করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে নীরব রয়েছে। তবে এইসব চিরকাল চলবে না। ক্ষমতা করুর চিরকাল থাকে না। আর থাকবেও না। নিত্যানন্দবাবু জানিয়ে দেন ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে আসার পর তিনি কেষ্ট মণ্ডলের কলার ধরে তার কাছে ধারদেওয়া  টাকা ফেরৎ চাইবেন।

 

এরপর বর্ধমান আদালতে প্রবেশের পথে  নিত্যানন্দবাবু সংবাদ মাধ্যমকে  আরও বলেন “,অনুব্রত মণ্ডল একটা ডাকাত।  ২০০ টা মার্ডার করেছে।” নিত্যানন্দবাবুর তোলা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রীয়া জানার জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,ওই চিটিং বাজটার বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না ”। এই টুকু  কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এইবিষয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও  জেলার বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী এই ঘটনা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “দিদির সাধের কেষ্ট এখন উলঙ্গ রাজা।  যত দিন যাচ্ছে ওর দলের লোকজনই ওর মুখোশ খুলে দিচ্ছে।দিন যত গড়াবে অনুব্রতর আসল স্বরুপ ততই প্রকাশ্যে আসবে।  বীরভূমের মানুষ আগামী বিধানসভা ভোটে অনুব্রতকে যোগ্য জবাব দেবার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। ”

Related Articles

Back to top button
Close