fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পৌষ মেলা ও বসন্ত উৎসবে সাহায্যের আশ্বাস অনুব্রত’র

সৌরভ বড়াল, বীরভূম: ২০১৯ সালে পরিবেশ আদালতের ভূমিকায় রীতিমত বীতশ্রদ্ধ হয়ে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু তারপরে মেলা নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সাহায্যের আশ্বাস পাওয়াই অবশেষে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল চার দিনের জন্য। কিন্তু এই একই বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের দোহাই দিয়ে জনগণের জন্য বসন্ত উৎসব বন্ধ করতে সফল হয় বিশ্বভারতী।

 

 

 

বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে বারবারই দাবি করা হয়েছে এই পৌষ মেলা এবং বসন্ত উৎসবের মতো বিশাল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করার মত ক্ষমতা তাদের আর নেই। তাই অবশেষে বিশ্বভারতীর কর্মসমিতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ঘোষণা করল আগামী বছর থেকে বিশ্বভারতী আর পৌষ মেলা এবং জনগণের জন্য বসন্ত উৎসব আয়োজন করবে না। শুধু রীতি মেনে বসন্ত উৎসব হবে বিশ্বভারতীর আভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান হিসেবে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বসন্ত উৎসব নিয়ে ব্যাপক বিশৃংখলার অভিযোগ উঠেছিল বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর ২০১৯ সালে পরিবেশ আদালতের আইনানুগ ব্যবস্থা কে সামনে রেখে পৌষ মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্বভারতী।কিন্তু বিভিন্ন মহলের চাপে পড়ে অবশেষে গত বছর পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মেলা শেষ হওয়ার 48 ঘণ্টার মধ্যে মেলা প্রাঙ্গণ খালি করে দেওয়া এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেওয়ার নির্দেশিকা ছিল পরিবেশ আদালতের।বিশ্বভারতীর দাবি, বারবার মেলার ব্যবসায়ীদের উঠে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা উঠে যান নি। বরং মেলার ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাঁড়া বিশ্বভারতীর মেলা আয়োজন কারী কর্মীরা দারুন ভাবে হেনস্থা হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে বিশ্বভারতী। শুধু তাই নয় বিশ্বভারতীর মেলা আয়োজনকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করে ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাই এবার কর্মসূচিতে সিদ্ধান্ত হয় ২০২০ সালে কোনওভাবেই পৌষমেলা আর আয়োজন করতে পারবেনা বিশ্বভারতী।

 

 

অন্যদিকে বিশ্বভারতীর এই সিদ্ধান্তের পর পৌষ মেলা বন্ধ এবং জনগণের জন্য বসন্ত উৎসব যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন এস আর ডি এর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, “বহু প্রাচীন কাল থেকে শান্তিনিকেতনে এই দুটি উৎসব এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুই উৎসব যাতে বন্ধ না করা হয় তার জন্য বিশ্বভারতী কে সমস্ত রকম সাহায্য করতে রাজি।” উল্লেখ্য ঐতিহ্যমন্ডিত শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা ১৮৮৮ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট তৈরি করেন পৌষ মেলা করার জন্য। তারপর মেলা শুরু হয় ১৮৯৪ সালে ৭ পৌষ। সেদিন মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় মানুষদের উদ্যোগে মেলা বসেছিল। তখন পৌষ মেলা ছিল কেবল হস্তশিল্প মেলা। একদিনই এই মেলা বসত। ১৯২১ সালে মেলা হয় দুদিনের এবং হাজার ১৯৬১ সালের পৌষ মেলা পূর্ব পল্লীর মাটি স্থানান্তরিত হয়ে মেলা হয় তিন দিন। এরপর থেকেই পৌষ মেলার চরিত্র বদল হতে শুরু করে। হস্ত ক্ষুদ্র শিল্প এই পৌষ মেলা ধীরে ধীরে বহুজাতিক বাণিজ্যিক মেলায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। অবশেষে শেষবার পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেলা হয় চার দিনের। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি বাড়তেই থাকে। পৌষ মেলা প্রাঙ্গণে বহুজাতিক ব্যবসায়ীদের দাবি বর্তমানে বাণিজ্যিক মেলা দিন বাড়াতে হবে। কিন্তু পরিবেশ আদালত তাতে সায় দেয়নি। 2009 সালে জোরপূর্বক আরো দুদিন মেলা বাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যবসায়ী মহল।

 

 

 

 

কিন্তু চূড়ান্ত বিশৃংখলা তৈরি হয় বিশ্বভারতীর মেলা আয়োজন কারী কমিটির কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে। আর তাছাড়া এই মেলার পরিবেশ দূষণের জন্য পরিবেশ আদালতের কাছে মামলাও রয়েছে যা বিশ্বভারতী কে খরচ বহন করতে হচ্ছে। তাই আগামী ২০২০ সাল থেকেই শান্তিনিকেতন পৌষ মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বভারতী। এ বিষয়ে ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “পৌষ মেলা বহু প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে যা কখনোই বন্ধ করা উচিত নয়। তবে করোনা র প্রভাবের কারণে মেলার বিপুল পরিমাণ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ক ভাবা দরকার।” যদিও পৌষ মেলা ও জনসাধারণের জন্য বসন্ত উৎসব বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সরকারিভাবে ঘোষণা করলেও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া বা বিশ্বভারতী সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য জানাতে এখনো বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোন আধিকারিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Related Articles

Back to top button
Close