fbpx
কলকাতাহেডলাইন

গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআই তলবে নথি দিলেন শুল্ক অফিসাররা, সোমবার ডাকা হল অনুপ মাঝিকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিএসএফ কমান্ড্যান্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কিভাবে পূর্ণবয়স্ক গরুকে বাছুর বানিয়ে কম শুল্ক দিয়ে পাচার করে দেওয়া হত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই এই কাণ্ডে গরু পাচার চক্রের কিংপিন এনামুল হককে জেরা করেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। আরো জানা গিয়েছ, এর পিছনে রয়েছে শুল্ক দফতরের কিছু কারচুপিও। সিবিআই তলব পেয়ে এদিন এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি নিজাম প্লেসে এসে জমা দিলেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা। একইসঙ্গে সোমবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অনুপ মাঝিকে তার বাড়ির ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েছে সিবিআই।

কিন্তু কীভাবে গুরু পাচারকারীদের সঙ্গে শুল্ক দফতরের যোগসাজশ খুঁজে পেল সিবিআই? সূত্রের খবর, পাঁচাল হওয়া পূর্ণবয়স্ক গরুকে বাছুর হিসেবে খাতায় কলমে দেখিয়ে টেন্ডার ডাকা হত এবং টেন্ডার এর যাবতীয় তথ্য ফাঁসও করা হত এনামুলের কাছে, এমন তথ্য আগেই জানা গিয়েছিল ৷ আর এই টেন্ডার ঢাকা এবং তথ্য ফাঁস করার পেছনে হাত রয়েছে শুল্ক দফতরের বেশকিছু আধিকারিকদের, এমনটাই তদন্তে পেয়েছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। সেই কারণেই সেই সমস্ত টেন্ডারের নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। শনিবার সকালে নিজেরাই গাড়িতে এসে সেই তথ্য সিবিএ হাতে তুলে দিয়ে যান শুল্ক অফিসাররা। একাধিক শুল্ক দফতরের আধিকারিকের নাম উঠে আসছে এ ক্ষেত্রে৷ আগামী সপ্তাহ থেকেই নোটিশ যাবে তাদের কাছে, এমনই সূত্রের খবর৷ এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতার কাছে নিয়মিত টাকা পৌঁছনো হতো এবং উঁচুতলার বিএসএফ কর্তারাও গোটা বিষয়টি ওয়াকিবহাল থাকতেন , এমন তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

জানা গিয়েছে, পাচারের সময় কিছু গরু বিএসএফ বাজেয়াপ্তের তালিকায় রাখা হত, যাতে সন্দেহ না হয়৷ বাজেয়াপ্ত হওয়া গরু গুলোকে সরকারি খাতায় আকার-আয়তন কম করে বাছুর হিসেবে ধরা হত৷ তারপর সে গুলোকে বাছুর হিসেবে দেখিয়েই টেন্ডার ডাকত শুল্ক দফতর৷ সেই বাছুরকে তোলা হত নিলামে৷ নিলামের স্থান কাল পাত্র দাম সব এনামুলকে আগাম থেকে জানিয়ে রাখা হত৷ যাতে এনামুলই সেই টেন্ডার পেতে পারেন৷ আর সেইভাবে খবর চলে যেত অনুপ মাঝি অর্থাৎ লালার কাছে। এভাবেই গরু পাচার এবং একইসঙ্গে কয়লা পাচার হয়ে যেত বাংলাদেশে। আর এইভাবে কম ওজন দেখানোর জন্য ভালো পরিমাণ টাকা এবং আরো অন্যান্য জিনিসপত্র উৎকোচ হিসেবে দেয়া হতো শুল্ক আধিকারিকদের এমনটাই অভিযোগ। সেই কারণেই শুল্ক দফতরের নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এবার অনুপ মাঝি কেও জেরা করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।

Related Articles

Back to top button
Close