fbpx
কলকাতাহেডলাইন

লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে সরব মানবাধিকার সংগঠন

মোকতার হোসেন মন্ডল: লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে সরব হচ্ছে  মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি বা এপিডিআর। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি জমা দেবে তারা। এপিডিআর-এর দাবি,অবিলম্বে সমস্ত লোকাল ট্রেন চালু করতে হবে। ট্রেনে বা স্টেশনে হকার উচ্ছেদ চলবে না বলেও দাবি সংগঠনটির।

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রঞ্জিত শূর জানান,”গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল থেকে একটা বড় অংশের মানুষকে প্রতিদিন কলকাতায় যেতে হয় তাঁদের জীবনজীবিকার টানে। কেউ কেউ ভোরের ট্রেনে যান অন্যের বাড়িতে কাজ করতে, কেউ যান আয়ার কাজে, কেউ ফল, মাছ বা সব্জি বিক্রি করেন, কেউ কেউ আবার ট্রেনে বা স্টেশনে  হকারি করে সংসার চালান। সব্জি বিক্রেতা, হকার, ছোটো ব্যবসায়ী, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সকল সাধারণ মানুষের নিত্য যাতায়াতের সবচেয়ে বড় গণপরিবহনের মাধ্যম হল লোকাল ট্রেন।

   আরও পড়ুন: ক্রীড়া জগতে শোকের ছায়া, প্রয়াত প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার কার্লটন চ্যাপম্যান

উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেতেও কলকাতা শহরে যেতে হয়। গড়ে দশ থেকে বিশ টাকা ব্যয় করে একজন সহজেই শহরে চলে যান রুটিরুজির সংস্থানে। কিন্তু বিগত সাত মাস যাবৎ করোনা অতিমারির অজুহাতে এই লোকাল ট্রেন বন্ধ! আনলক পর্যায়ে সমস্ত দোকানপাট, অফিস, সিনেমা হল, শপিংমল  খুলে গেছে। অথচ লোকাল ট্রেন এখনো চালু হয়নি! যার সবচেয়ে ক্ষতিকর ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে।”

আরও পড়ুন: তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে আলিপুরদুয়ারের ডিআরএমের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি কর্মীদের

রঞ্জিত শূর বলছেন,” যাদের সামর্থ্য আছে তারা প্রাইভেট গাড়ি কিংবা ওলা উবেরে করে সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে সুরক্ষিত ভাবে বেরোচ্ছেন বাইরে। এদিকে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষগুলোকে সমস্ত করোনাবিধির বালাই ছাড়াই পেটের টানে বেরোতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে ভীড়ে ঠাসা বাসে বা অটোয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে শহরে যেতে হলেও সেই ভীড় বাস ছাড়া উপায় নেই। রাস্তার যানজট পেরিয়ে সাধারণ মানুষ কার্যত জীবন হাতে নিয়ে বাইরে বেরোচ্ছেন।  করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে মুখে “সোশ্যাল ডিসট্যান্স” এর বাণী প্রচার করছে আর একদিকে এভাবে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে!

মানুষের চরম ভোগান্তি সত্ত্বেও করোনাকে হাতিয়ার করে দীর্ঘদিন লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখার পেছনে আসলে যে কেন্দ্রীয় সরকারের রেল বেসরকারিকরণের নোংরা ষড়যন্ত্র তা দিন দিন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সব চালু হয়ে গেল, শুধু  ট্রেন কবে চালু হবে সেই নিয়ে সরকারের  কোনো মাথাব্যথা নেই। এবিষয়ে চুপ রাজ্য সরকারও। সম্প্রতি মেট্রো রেল চালু হয়েছে বটে। কিন্তু সেখানেও একই বৈষম্য। যাদের স্মার্টফোন, স্মার্টকার্ড আছে তারাই কেবল এর পরিষেবা পাবে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার কেবল একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের কথাই ভাবছে, তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে। আর সাধারণ মানুষকে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা তথা সুরক্ষিত ভাবে যাতায়াতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। ”

এপিডিআর এর নেতারা বলছেন,ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে লক্ষ লক্ষ হকার পরিবারের জীবন-জীবিকা।  সরকার ট্রেনে হকার উঠা বন্ধ করতে চাইছে। কী হবে এই লক্ষ লক্ষ হকার পরিবারের ভবিষ্যত?  কোন জবাব নেই। আমারা তাই ট্রেন বা স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদেরও যে কোন  প্রচেষ্টাকে বিরোধিতা করার জন্য নাগরিকদের কাছে আবেদন জানাই।”

Related Articles

Back to top button
Close