fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দুপুরে অ্যাপ ক্যাবে মহিলাকে গলা কেটে খুন, রাতেই দেহ উদ্ধার করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার পুলিশের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ফের শহর কলকাতায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড! টাকা ধার নিয়ে শোধ না দেওয়ার জেরে ভর দুপুরে অ্যাপ ক্যাবে এক মহিলাকে গলা কেটে খুন করে খালে ফেলে দিল অ্যাপ ক্যাব চালক। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটেছে টালিগঞ্জ থানা এলাকায় সাদার্ন অ্যাভিনিউতে। খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয় বাইপাসে ডিসান হাসপাতালের পিছনের খালে। অবশ্য শুক্রবার রাতের মধ্যেই খুনের কিনারা করে অভিযুক্ত চালক শিবশঙ্কর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে জেনে উদ্ধার করা হয় ওই মহিলার দেহ।
জানা গিয়েছে, লক্ষ্মী দাস নামে বছর ৪৫-এর ওই মহিলা মুদিয়ালি এলাকায় পরিচারিকার কাজ করতেন। ৪ নম্বর দেশপ্রাণ শাসমল রোডে বাড়ি ৪৫ বছরের লক্ষ্মী দাসের। ওই পাড়াতেই থাকেন অভিযুক্ত অ্যাপ ক্যাব চালকও। শুক্রবার দুপুরে পরবর্তী বাড়িতে কাজে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাপ ক্যাবে ওঠেন ওই মহিলা। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চালক শিবশঙ্করকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন এবং প্রয়োজনে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধারও দিয়েছিলেন। অ্যাপ ক্যাবে দেখা হয়ে যাওয়ায় সেই টাকা ফেরত চায় শিবশঙ্কর। অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বেমালুম অস্বীকার করেন ওই মহিলা।
এরপর এই দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। এর পর সাদার্ন অ্যাভিনিউতে রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে এসি চালিয়ে অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ওই মহিলাকে খুন করে অভিযুক্ত চালক। ক্যাবের মধ্যেই মৃত্যু হয় লক্ষ্মীর। তার পর তাঁর দেহ নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকেন শিবশঙ্কর। এরপর সেই দেহ নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বিকেল সাড়ে ৩ টে নাগাদ সুযোগ বুঝে ডিসান হাসপাতালের পিছনে খালের মধ্যে দেহটিকে ফেলে ভবানীপুরে গাড়ি রেখে সে চলে যায়।
এদিকে দুপুরের পরেও লক্ষ্মী দাস বাড়িতে না ফেরায় পরিজনরা প্রথমে চারুমার্কেট ও পরে টালিগঞ্জ থানায় যান। স্ত্রীর খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগ জানান লক্ষ্মীর স্বামী সুভাষ দাস। এ দিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে লক্ষ্মীর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন পাড়ার ক্যাব চালক শিবশঙ্কর মান্নার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে লক্ষ্মীকে। তবে ঘটনার পর সে পলাতক ছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সিসিটিভি খতিয়ে দেখে শিবশঙ্করের খোঁজ পায়। ইতিমধ্যেই শিবশঙ্কর তাঁর এক বন্ধুকেও বিষয়টি জানিয়ে ফেলে বলে দাবি পুলিশের আরেক সূত্রের। এর পর তল্লাশি  অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে দেহের খোঁজ পায় পুলিশ। সেই খাল থেকেই দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটির এখনও সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। ফুলবাগান থানা এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের দেহ উদ্ধার করলো ফুলবাগান থানা। শুক্রবার রাত থেকে ওই যুবকের দেহ পড়েছিল। এলাকার বাসিন্দারা প্রথমে ভাবেন, সে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু করোনা ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। সকালের দিকে সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।

Related Articles

Back to top button
Close