fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

হারাচ্ছে জৌলুস! ঋণের দায়ে জর্জরিত আরব দুনিয়া

রিয়াধ, সংবাদ সংস্থা: করোনার প্রকোপ শুরুর আগেই তেলের মূল্য হ্রাস ও মন্থর অর্থনীতির গতি ফেরাতে নতুন নতুন ঋণ নিয়েছে আরব দেশসমূহ। আর এখন করোনা সংকটে পড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঋণ নিচ্ছে মিশর, তিউনেশিয়াসহ জিসিসিভূক্ত (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) আরব দেশসমূহ। সূত্রের খবর, আগামী বছরের মধ্যে এসব দেশের মোট ঋণের পরিমাণ হবে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মহামারীর কারণে পর্যটন ব্যবসায় চূড়ান্তভাবে লোকসানের দেখেছে মিসর। সমুদ্র সৈকত আর ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন না হওয়ার কারণে জাতীয় আয়েও ঘটতি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মে মাস থেকে মিসরের ঋণ হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। শুধু মিসর নয় গোটা আরব বিশ্বের অবস্থা এই। চলতি বছরে প্রথম দশ মাসে জিসিসিভূক্ত ছয় দেশের (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান) ঋণের পরিমাণ রেকর্ড একশো বিলিয়ন ডলার। ট্রেজারিগুলিও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহী করে তুললেও সর্বদা তা সফলভাবে হচ্ছে না। যেভাবে তিউনিসিয়া সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ট্রেজারি বন্ড কিনতে বলেও সফল হয়নি।

২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অঞ্চলটির ১১টি তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশের জিডিপির ২৫ শতাংশ ছিল ঋণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিচ্ছে, আগামী বছর এ অনুপাত হবে ৪৭ শতাংশ। জ্বালানি সম্পদ নেই এমন দেশে এই হার কম, কারণ এগুলো আগে থেকেই বিশ্বের সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ। তবে এটা যে সব সময় উদ্বেগের কারণ এমনটাও নয়। আগামী বছর সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ঋণের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অথচ ২০১৭ সালে ছিল ১৭ শতাংশ। আগামী বছর ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে কুয়েতের হবে ৩৭ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৩৮ শতাংশ। বাকি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির অবস্থা নড়বড়ে। ২০২১ সালে বাহরাইনের জিডিপিতে ঋণ ১৩১ শতাংশ বাড়বে। ২০০০-১৬ সালে গড়ে ৩৪ যা শতাংশ। ওমানের ঋণ সাতগুণ বেড়ে হবে ৮৯ শতাংশ।

এদিকে, ২০২১ সালে জিডিপিতে ঋণের অনুপাত ৭৯ শতাংশে কমিয়ে আনার পথে ছিল মিসর। কিন্তু ৫২০ কোটি ডলারের স্ট্যান্ডবাই চুক্তি আইএমএফকে ফেরত পাঠাতে হয়েছে। আগামী বছর জিডিপিতে ঋণের পরিমাণ ৯১ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। এদিকে জর্ডানে হবে ৮৯ ও তিউনিসিয়ায় ৮৬ শতাংশ। আপাত সংকট মোকাবিলা হলেও ঋণ রয়েছে নানামুখী সমস্যা। আগামী বছরও তেলের দাম কম থাকবে বলেই পূর্বাভাস। পর্যটন ছাড়াও অর্থনীতির বড় খাতগুলোতে গতি ফিরলেও তা হবে খুব ধীরে। অতিরিক্ত এই ঋণের বোঝা নিয়ে আরব সরকারগুলো অর্থনীতিকে কতটা সচল করতে পারবে তাই এখন দেখার।

Related Articles

Back to top button
Close