fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আরামবাগ টিভির সম্পাদক গ্রেফতার, মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন রাজ্যপালের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  এক অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের গ্রেফাতারি নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ‘আরামবাগ টিভি’ নামের এক অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সফিকুলের স্ত্রী আলিমা বিবি এবং ‘আরামবাগ টিভি’র আরেক সাংবাদিক সুরজ আলি খানকে। তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের নামে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। রবিবার সফিকুল এবং সুরজের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। যাতে অভিযোগ ছিল, সরকারি গাছ কাটা নিয়ে সুরজ এক ব্যক্তিকে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, সুরজ তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার ‘তোলা’ চেয়েছেন। না দিলে গাছ কাটা নিয়ে দুর্নীতির ‘ভুয়ো’ খবর ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে রবিবার রাতে।

রাজ্যপাল এও লিখেছেন, “সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখা মানে গণতন্ত্রের মুখ বন্ধ করে দেওয়া।”তিনি বলেন,’সরকারি টাকা ভুয়ো ক্লাবগুলির মধ্যে বিলি করার জেরে সাংবাদিক সফিকুল ইসলামকে গ্রেফাতার করা হয়েছে। এটা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। এভাবে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অর্থ গণতন্ত্রেরও কণ্ঠরোধ।’ নিজের টুইটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এডিটর্স গিল্ড এবং প্রেস ক্লাবকে ট্যাগও করেছেন রাজ্যপাল।

সফিকুলের অভিযোগ ছিল, পুকুর চুরি হওয়া মানুষের সামনে তুলে ধরার কারণেই এই পুলিশ উঠেপড়ে লেগেছে তাঁকে জেলে পাঠাতে। সেই সময়ে অনেকে বলেছিলেন, যে ক্লাবগুলিকে পুলিশ সরকারি চেক বিলি করেছিল তার অধিকাংশের কোনও অস্তিত্বই নেই। সবটাই শাসকদলের নেতাদের লুটে খাওয়ার বন্দোবস্ত। এদিন রাজ্যপাল টুইট করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে লিখেছেন, “সরকারি টাকা ভুয়ো ক্লাবগুলির মধ্যে বিলি করা তুলে ধরাতে সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার হয়েছে।”

আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক সংকট, শহরে ফিরতে চান না পরিযায়ী শ্রমিকরা

আগের মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক নির্দেশ দিয়েছিলেন, সফিকুলকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু গতকাল একটি এফআইআর দায়ের হয় সফিকুল ও আরামবাগ টিভির সাংবাদিক সুরজের বিরুদ্ধে। তাতে বলা হয়, গাছ কাটা নিয়ে এক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পুলিশকে বলেন, সুরজ তাঁকে হুমকি দেন, ৩০ হাজার টাকা না দিলে গাছ কাটার খবর ফাঁস করে দেবেন! তাঁর বক্তব্য, তিনি সুরজকে বলেছিলেন পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছ কাটছেন। তাও টাকা চাওয়া হয়।

সফিকুলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই পুলিশ একেবারে তৃণমূলের ক্যাডারবাহিনীর মতো কাজ করছে। কোনও লাজলজ্জা নেই। সফিকুলের দুটি শিশু সন্তানকেও পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তাদের ছাড়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় শিশু সুরক্ষায় লকডাউন চলছে।” পুলিশের তরফে ১৪ দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও বিচারক সাত দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন।

Related Articles

Back to top button
Close