fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নবান্ন অভিযান… রণক্ষেত্র হাওড়া ময়দান, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ছোঁড়া হল বোমা

মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটালো পুলিশ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: শিল্প, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক দাবিতে বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযান কর্মসূচি। সঙ্গে রয়েছে টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ইস্যুও। বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়া ময়দান। আন্দোলনে বাধা পেয়েই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির পাশাপাশি বোমা ছুঁড়তে শুরু করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।  মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আত্মরক্ষায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে শুরু করে পুলিশ। ফলে কিছুটা হলেও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে বিজেপি কর্মীরা। এ সময়ে মল্লিকফটকের কাছে বিজেপির এক কর্মীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রাজনৈতিক আন্দোলনে কেন পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হল কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মী এসেছিলেন তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

নবান্ন অভিযানের জন্য এদিন হাওড়া ময়দানে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। নবান্ন অভিমুখী মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য হাজির ছিলেন বিজেপি যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য, রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খান, কোচবিহারের সাংসদ নীশীথ প্রামানিক। বিক্ষোভকারীরা মল্লিকফটকের কাছে পুলিশের প্রথম ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায়। বিজেপি কর্মীদের প্রতিরোধের জন্য আগেভাগেই জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিয়ে প্রস্তুত ছিল পুলিশ কর্মীরা।

প্রথম ব্যারিকেড ভাঙার পরেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বোমাবাজিও করা হয়। রণংদেহী গেরুয়া গুণ্ডাদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠিতে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হন। যদিও তাতে না দমে ফের পুলিশকে আক্রমণ শুরু করে গেরুয়া গুণ্ডারা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও শুরু হয়। মিছিলকে প্রতিহত করতে শেষ পর্যন্ত কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অনেক রাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী থাকা মল্লিকফটক, সন্ধ্যাবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা গেরুয়া গুণ্ডামিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিজেপি কর্মীরা প্রাথমিকভাবে কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও হাওড়া ময়দান থেকে লাগাতার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি চালাতে থাকে। জিটি রোডে একের পর এক টায়ার জ্বালিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে থাকেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ জনতার, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্যদিকে, হেস্টিংস-এর দিক থেকে যে মিছিল আসার কথা ছিল তাতে অর্জুন সিং, লকেট চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কোনও নেতাকে দুপুর একটা পর্যন্ত দেখা যায়নি। কিন্তু পুলিশের জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার পরেই বিজেপি সমর্থকেরা গুণ্ডামি শুরু হয়। স্থানীয় পুলিশের কিয়স্ক, বাস স্ট্যান্ড, রাস্তার র‍্যাম্প বিভিন্ন জিনিস ভাঙা শুরু করে বিজেপি সমর্থক ও সদস্যরা। হেস্টিংস-এ পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ হচ্ছে দেখে পরিস্থিতি সামলাতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথঅ বলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। তারপরেই হেস্টিংসের রাস্তার মাঝখানে বসে পড়েন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতারা। সেখানেই সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি নেতারা।

দুপুর একটা নাগাদ বিজেপির সদর দফতর থেকে দিলীপ ঘোষ, অরবিন্দ মেননের নেতৃত্বে বিরাট মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিল এমজি রোড ধরে হাওড়া ব্রিজের দিকে এগোতে থাকে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি হেস্টিংস ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর মিছিলে। তার তুলনায় হাওড়ার দুটি মিছিলে অনেকটাই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close