fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জীবিকার সন্ধানে নৌকা সাজিয়ে ও মিলছে না পাস, দুশ্চিন্তায় মউলিয়ারা

পবিত্র মণ্ডল : হাজারো বিপদ এলেও কোনো দিন এমন হয়নি সুন্দরবনের মৎস্যজীবী-জঙ্গল নির্ভর মানুষের । ভালই চলছিল তাদের জীবন যাত্রা ।বাত সাদলো করোনা, এক দিকে উপকার হয়েছে জল-জঙ্গলের ,নদী-খাঁড়ির পরিবেশের নির্মলতা ও বাহার বেড়েছে , বেড়েছে মাছের পরিমাণ । মৎস্যজীবীরা এই মাছ সংগ্রহ করার জন্য সময় পায় ন মাসের আঠারোটা গোণ।তিন মাস বন্ধ থাকে মাছ ধরা ,সেসময় বেশির ভাগ মাছ ডিম ছাড়ে। সময়টা হল মার্চ মাসের ১৫ তারিখ থেকে জুন মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত । এই সময়ে ও উদার প্রকৃতির অপার ভাণ্ডারে সাজানো সম্ভারে সঞ্চিত থাকে অমৃত সম মধু।আর এই মধু প্রতি বছর ১৫ই এপ্রিল বনবিভাগের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ,কয়েক শ মউলিয়া তাদের নৌকা সাজিয়ে পূজা করে, মা বনবিবি ও দক্ষিণরায়কে সরণ করে পাড়ি জমায় সুন্দরবনের গভীর থেকে গভীরতম জঙ্গলে।মাছ ধরার সময়ের মতো এই সময়ে কোর -বাফার এরিয়া থাকেনা।থাকেনা বি এল সি (বোড লাইসেন্স সার্টিফিকেট ) তোলার ভয় কিংবা ফাইন দেবার ভয় ।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কালিতলার ৬৫  বয়সী করুণা গায়েন প্রতিবছরের ন্যায় এ বৎসর ও ৮ জনের টিম তৈরি করে, মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে , বাজার করে নৌকা সাজিয়ে বসে আছে, কারণ জঙ্গলে গেলে সকলেরই থাকা খাওয়া নৌকাতে এবং ফুলের মধু সংগ্রহকারী শ্রমিক মৌমাছি লক্ষ্য করে মধুর চাক খোঁজা জঙ্গলের মধ্যে যতদিন না মধু পাওয়া যায় । কালিতলার ষাট উদ্ধো ছন্নত গাজীর ও একই পরিস্থিতি । দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুমিরমারির সমীর সরদার ,বৈষ্ণব মণ্ডল, সাতজেলিয়ার কৃষ্ণপদ মণ্ডল ,পঞ্চরাম মণ্ডল ,গোসাবার অনুকূল দাস, বালির শংকর আড়ীরা এখনও জানেন না কবে মধু সংগ্রহের পারমিশন পাবেন ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বার্তা দিলীপ ঘোষের

বন বিভাগ বলছেন লকডাউন শেষ হলেই পারমিশন দেবেন কিন্তু ক্রমশই লক ডাউন বেড়ে চলেছে আর এই দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষগুলোর মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সুদ যেমন বেড়ে চলেছে সঙ্গে টান পড়েছে ভাঁড়ারে ।সরকারি চাল বরাদ্দ হলেও তো সবার সঠিক ভাবে মেলে না।কিন্তু যদি এই মানুষগুলোর উপর থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানো যায় তাহলে, তাদের ও তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ -পরোক্ষ ভাবে জড়িতদের পরিবার সুষ্ঠু ভাবে চলে।সময়টা চলে গেলে নষ্ট হবে কয়েক হাজার কুইন্টাল মধু , এ ক্ষতি সমাজ- রাজ্য -দেশ সকলেরই।

Related Articles

Back to top button
Close