fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

বাতিলের মাঝেও ঠাকুর গড়ছেন শিল্পীরা

মনীষা ভট্টাচার্য: আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধটা খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। আসলে প্রতিবারের মতো এবারের ব্যাপারটা আলাদা। এক – মহালয়ার প্রায় ৩৫ দিন বাদে পুজো, আরেক – করোনা ভীতিতে সকলেই বলছেন পুজোর পর করোনা বারবে। এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখন জানা যাচ্ছে কলকাতা একটি সরকারি হাসপাতালে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত, চিকিৎসা সঙ্কটে। খবর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। তবু এসবের মধ্যেই পুজো হবে। মুখ্যমন্ত্রী পুজোকমিটির জন্য ৫০,০০০ টাকা ঘোষণা করার পর শহর কলকাতার অনেক পুজো মণ্ডপেই জোরগতিতে কাজ এগোচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় বাঁশ বাধা শেষ হয়েছে। এমতাবস্থায় কথা হল দু’ই প্রতিমাশিল্পীর সঙ্গে। চায়না পাল ও পশুপতিরুদ্র পাল দু’জনেই ঠাকুর গড়তে ব্যস্ত। তারই মাঝে জানালেন এবছরের কথা।

শিল্পী চায়না পাল ব্যস্ত কাজে।

কুমোরটুলির সরু গলি দিয়ে ঢুকে মোহনবাঁশি রুদ্র পালের স্টুডিও থেকে একটু এগিয়ে ডান হাতে মৃৎশিল্পী চায়না পালের স্টুডিও। ৫-৬ জন কর্মী নিয়ে শিল্পী তখন কাজে ব্যস্ত। এবছরের পরিস্থিতিতে কেমন কাজ হচ্ছে জানতে চাইলে চায়নাদি জানান, অন্নপূর্ণা ঠাকুর গড়ে সব যখন তৈরি, তখন শুরু হল লকডাউন। সব বায়না বাতিল হয়ে গেল। ঘর ভর্তি মা। তারই মধ্যে মে মাসে আমফান ঝড়, সব ঠাকুর ভেঙে তচনচ। আমার সব খরচা নষ্ট হল।

দুর্গাঠাকুরের বায়না এখন আসছে। লকডাউনের সময় পুরো কুমোরটুলিই বন্ধ ছিল। দু-আড়াই মাস হল কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোর বায়না যা এসেছিল তার অনেক বাতিল হয়েছে। নতুন করে আসছে, নেওয়াও হচ্ছে। কিন্তু মনে একটা আতঙ্ক এখনও রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত কী হবে? সব ঠিক থাকবে তো? এবছর বায়না অর্ধেক হয়ে গেছে। ঠাকুরের উচ্চতা কম বলে দামও কম। লক্ষ্মী কিছু তৈরি করা হয়েছে, কালীও হয়েছে, তবে বেশি না, কারণ, কালীপুজো সবই বারোয়ারি। কতটা পুজো হবে বুঝতে পারা যাচ্ছে না। সব সময় একটা অনিশ্চয়তা। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ চলছে। তবে এবার শিল্পীর বিদেশের বায়নাও বাতিল হয়েছে। সব থেকে মুশকিল হয়েছে ঠাকুর তৈরির সবরকম কাঁচামালের দাম দ্বিগুন হয়েছে। লকডাউন, আমফান সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাংলায় মায়ের সাজের ক্ষেত্রেও আসল শোলার সাজ কতটা দেওয়া সম্ভব হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

কাজের ফাঁকে পশুপতি রুদ্র পাল।

চায়না পালের সঙ্গে কথা বলে গঙ্গার দিকে এগিয়ে গেলে বাঁ-হাতে পড়বে পশুপতি রুদ্র পালের স্টুডিও। দু’জন কর্মী মায়ের কাঠামোতে খড় বাঁধতে ব্যাস্ত। স্টুডিওতে দেখা গেল একটি থিমের ঠাকুরও রয়েছে। একটু অপেক্ষার পর শিল্পীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হল। তিনি বললেন, এবছর ঠাকুর বানাতে খুবই অসুবিধে হচ্ছে। ট্রেন চলছে না, ফলত অনেকে আসতে পারছে না। তাই কম লোকসংখ্যা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বায়না যেটুকু আসছে তাতে ঠাকুরের উচ্চতা অনেকটাই কমে গেছে। কমিটি কিংবা বাড়ির সদস্যরা এসে বলছেন, এমন উচ্চতার ঠাকুর গড়ে দিন যাতে আমরাই ঠাকুর নিয়ে যেতে পারি আমরাই বিসর্জন দিতে পারি।

আরও পড়ুন:মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার আরও ১

পশুপতি রুদ্র পালের স্টুডিওতে তৈরি হচ্ছে একটি থিমের ঠাকুর।

ফলত বাড়ির ঠাকুর ৪ফুটের বেশি করার সুযোগ নেই। ফলত অবস্থা খুবই খারাপ। যাতায়াতের ব্যবস্থার অসুবিধের জন্য মায়ের সাজ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন শিল্পী। তাঁর কথায়, ‘চাহিদা অনুযায়ী মায়ের সাজ দিতে পারব কিনা জানি না, তবে না দিতে পারলে মাকে যেভাবে সাজিয়ে দেব সেইভাবেই নিতে হবে। এটুকু সহযোগিতা আশা করি পাব’। জানুয়ারির শেষ থেকে বেশ কিছু বড় ঠাকুর গড়ে রেখেছিলেন শিল্পী। কিন্তু করোনা মহামারীতে সেগুলো আর বিক্রি হবে বলে মনে হয় না। তবে আমফান থেকে সেই সব মূর্তিকে রক্ষা করতে পেরেছেন তিনি। কালীপুজোর একটি ছাড়া আর কোনও বায়না হয়নি। হবে কিনা তাও বলতে পারছেন না। প্রতিবছর দুর্গামূর্তির সংখ্যা যাই থাকুক না কেন, এবছর তা কমে ৬-৭টায় দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে দামও কমে গেছে। তবু আশা আছে। পরের বছর সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার আগের মতোই ঠাকুরের বায়না হবে।

Related Articles

Back to top button
Close