fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভারতবাসী হিসেবে চিনের সঙ্গে যুদ্ধ চেয়ে হুংকার অনুব্রতর

সৌরভ বড়াল, বীরভূম: ভারতবাসী হিসাবে চিনের সঙ্গে যুদ্ধ চেয়ে হুংকার অনুব্রত মণ্ডলের। সেই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ভাওতাবাজ বলে দাবী করলেন।

 

 

ভারত চিন সেনবাহিনীর মধ্যে লাদাখে খন্ড যুদ্ধের ঘটনায় শহীদ বীর জাওয়ান বীরভূমের মহম্মদ বাজারের বাসিন্দা রাজেশ ওরাং-এর পরিবারকে সমবেদনা এবং রাজেশ ওঁরাও-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে পৌছে ছিলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সহ রাজ্যের দুই মন্ত্রী আশীষ বন্দোপাধ্যায়, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা সহ আরো অনেকে।

 

 

 

শুক্রবারও রাজেশ ওঁরাও-এর বাড়িতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষিত অনুদান পাঁচ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের লোকদের এক সদস্যকে রাজ্য সরকারের তরফে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা জানান। সেই সঙ্গে রাজেশ ওরাং-এর ছোট বোন শকুন্তলা ওরাংকে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যাবতীয় আর্থীক ভাবে সাহায্য করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন অনুব্রত মণ্ডল।

 

অন্যদিকে রাজেশ ওঁরাও-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর গ্রামে শুক্রবার ভোর থেকেই জাম হয়েছিল কাতারে কাতারে লোক জন। প্রত্যেকের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা এবং পুষ্প। সঙ্গে প্রত্যেকের মুখে শ্লোগান ‘ইন্ডিয়ান আর্মি হাম তুমহারে সাথ হ্যাই’।

 

 

 

পাশাপাশি জনগণের মুখে ছিল চিনের বিরুদ্ধে বদলা চেয়ে শ্লোগান। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর জনগণের সঙ্গে কার্যত এক মত হয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি সংবাদ মাধ্যমের সামনে হুংকার দিয়ে বলেন, “শহিদের মৃত্যু খুবই বেদনা দায়ক। তাদের পরিবার শহীদের সাথে দেশের জন্য একটা বড় বলিদান দেন। রাজ্য সরকার শহীদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের এক সদস্যকে একটি চাকরি দেবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষনা করেছিলেন। তারপর আজই পরিবারের হাতে সেই আর্থীক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে সরকারি ভাবে। রাজেশের বোনের পড়াশোনার যাবতীয় আর্থীক দায়িত্ব সরকারের। মমতা বন্দোপাধ্যায় মিথ্যা কথা বলে না। ভাওতা বাজির কথা বলে না। নরেন্দ্র মোদির মতো ভাওতা বাজির কথা বলে না। নরেন্দ্র মোদি যেমন ভাওতা বাজ। কুড়িবার চীন গেছে। দিয়ে ঘুরে এসে বলেছেন আমি মিটিং করে সেনার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি। এটা হয় নাকি! কেবিনেটে মিটিং করতে হয়। যুদ্ধ ঘোষনা করতে হয় প্রধান মন্ত্রীকে। রাষ্ট্রপতির সহি লাগে। বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে নাকি?”

 

 

 

এর পরই অনুব্রত মণ্ডল হুংকার দিয়ে বলেন, “আমরা ভারতবাসী হিসাবে বলছি। আমরা চীনের সঙ্গে যুদ্ধ চাইছি।” তৃণমূল জেলা সভাপতির এই ধরনের মন্তব্যের পর রাজ্যনৈতিক মহলে এবং আমজনতার মধ্যে ব্যাপক শোরগোল পরে যায়। রাজেশ ওরাংএর কফিন বন্দি দেহ ভারতীয় সেনা জাওয়ানদের কাধে চেপে গ্রামে পৌছানোর সাথে সাথেই সেনা জাওয়ানদের উদ্দেশ্যে শ্লোগান দিয়ে থাকেন জনতা। চীনের বিরুদ্ধে বদলার শ্লোগান শোনা যায় গোটা এলাকা জুড়ে। সম্মান জানানো হয় ভারতী সেনা জাওয়ানদেরও।

Related Articles

Back to top button
Close