fbpx
অসমগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বন্যায় অসমে ক্ষতির মুখে ৩০ লক্ষ মানুষ, ২৪ ঘন্টায় আরো ১৭ জনের প্রাণহানি

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: বন্যায় বিপর্যস্ত অসম। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬২। ৩২টি জেলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ক্ষতির মুখে। ১৫ লক্ষ মানুষ সরিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রায় ৫০০ টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব ভারতের পাহাড় ও বনে ঘেরা অসম ও মেঘালয় রাজ্যে অতিবৃষ্টিজনিত দুর্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সেখানে গত দুই দিনে আরও অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুই রাজ্যের অনেক অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও গৌরাঙ্গ নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সেসব এলাকার মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

মেঘালয়ের বৃষ্টিবহুল চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে ১৯৪০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অসমে প্রায় তিন হাজার গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ৪৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি বাঁধ, কালভার্ট ও সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষকে বহন করা একটি নৌকা হোজাই জেলায় ডুবে গেছে। এ সময় ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও তিন শিশু নিখোঁজ রয়েছে। অসমের রাজধানী গুয়াহাটির বেশির ভাগ স্থানে জল উঠে থমকে আছে জনজীবন। শহরে বেশ কয়েকটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

গুয়াহাটি ও শিলচরে বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে আসাম সরকার। অন্যদিকে প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন একটি বাঁধ নদীর পানিতে ডুবে গেছে।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বন্যায় মৃতদের পরিবারের জন্য চার লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মেঘালয় রাজ্য সরকার চারটি কমিটি গঠন করেছে। এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায়ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার মাত্র ছয় ঘণ্টায় শহরে ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। গত ৬০ বছরের মধ্যে আগরতলায় তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বন্যার কারণে শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এর জেরে ধূপগুড়ি এবং ফালাকাটার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে তিস্তা, জলঢাকা, কুমলাইসহ বিভিন্ন নদীর জল বাড়ায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close