fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রবিবার বাজার খুলতেই দিনহাটায় বিভিন্ন সবজির দাম আকাশছোঁয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় কনটেনমেন্ট জোন, বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করায় বন্ধ থাকে দোকান বাজার। কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর রবিবার খুলতেই দিনহাটায় বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠে। সবজির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পরতে হয় ক্রেতাদের। খোলাবাজারে কাঁচা লঙ্কা বিক্রি হয় ১৬০ টাকা কেজি।তার আঁচ লাগে সাধারণের পকেটেও। লঙ্কার পাশাপাশি অন্যান্য সবজি ও বিক্রি হয় চড়াদামে। একলাফে দাম অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

করোনা ভাইরাসে কনটেনমেন্ট জোনে সব কিছু ছিল বন্ধ, অন্যদিকে বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা, এই দুইয়ের ছোঁয়ায় বাজারে আনাজের দাম বেড়ে চলছে বলেও দিনহাটার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান। দিনহাটার প্রত্যুষা বাজার ছাড়াও বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি দিনহাটা মহকুমার অন্যতম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র চওড়াহাট-বাজারে প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন। করোনা আবহের এই সময় কালে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই সময়ের মধ্যে বাজারে বিভিন্ন রকম সবজি কেনার ক্ষেত্রেও হিসেব করতে হচ্ছে তাদেরকে। দাম অনেকটাই বেশি হওয়ায় কিনতে গিয়ে টান পড়ছে পকেটেও।

এদিন বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, আনাজের দাম বেড়ে চলছে তাতে এখনই লাগাম টানতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে সমস্যায় পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। ক্রেতাদের বিভূরঞ্জন সাহা, হিটলার দাস, হারান দে, তরুণ কর্মকার, অভিনব রায় প্রমুখ বলেন, একদিকে কনটেনমেন্ট জোন, অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা লকডাউন এর ফলে কয়েকদিন পর বাজার খোলায় বাজারে এসে কিছুটা হলে কম দামে পাবেন। এই আশা করলেও বিভিন্ন সবজি অনেক চড়া দামে কিনতে হয়। বাজারে লঙ্কা বিক্রি হয় ১৬০ টাকা প্রতি কেজি। লঙ্কার দাম অনেকটাই বেশি থাকায় আঁতকে ওঠেন তাদের অনেকেই। পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা , আলু ৩৫ টাকা যা দিন কয়েক আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা করে। এদিন মুলা বিক্রি হয় ১০০ টাকা করে। ঝিঙ্গা বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজি করে। এই ক্রেতাদের কথায় আনাজের দাম যেভাবে বেড়ে চলছে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কে।

দিনহাটার এই বাজারের আনাজ ব্যবসায়ীদের রতন সাহা , গোবিন্দ সাহা, আনারুল হক, সুধন সাহা প্রমুখ জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির ফলে চাষের জমিতে জল দাঁড়িয়ে পড়ায় ফসল অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি নতুন করে দিনহাটায় করোনা আক্রান্তের ফলে কন্টেনমেন্ট জোন হওয়ায় বাইরে থেকে আনাজের গাড়ি আগের মত আসছে না। বাজারে ভিড়ের পাশাপাশি ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই দর কষাকষি করতেও দেখা যায়।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় প্রমূখ বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে আনাজের দাম পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরো বাজারে বেড়েছে। বর্ষায় জমিতে জল দাঁড়িয়ে পড়ায় অনেক আনাজ নষ্ট হয়েছে। বর্ষায় ক্ষতি অন্যদিকে চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পাইকারি বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খুচরো বিক্রেতারা যাতে আনাজ বিক্রি করে সাংগঠনিকভাবে দেখবেন বলে জানান।

Related Articles

Back to top button
Close