fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীতে নামলেই মিলছে রূপোর কয়েন, চাঞ্চল্য মেখলিগঞ্জে

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জ: লকডাউনের বাজারে নদী থেকে রূপোর কয়েন উদ্ধারে শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জে। নদীতে নামলেই মিলছে রূপোর কয়েন, এখবর চারিদিকে চাউর হতে লকডাউন ভেঙ্গে কাতারে কাতারে মানুষ জড়ো হয় নদীর পাড়ে। রূপোর কয়েনের সন্ধানে কেউ কেউ নদীতে নেমে পড়েন। ইতিমধ্যে কয়েকজনের থেকে ২৫ টি কয়েন মিলেছে। আপাতত রূপোর মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলি ঠিক কোন্ ধাতুর, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেগুলি উদ্ধার করার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। জামালদহের শিকার পুর এলাকার সুটুঙ্গা নদীতে যারা বালি ও পাথর তোলে তারজালির সাহায্যে, সেই তারজালিতেই পাথরের সাথে জল থেকে উঠে আসে এই সব কয়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মেখলিগঞ্জ থানার ওসি রাজু সোনার সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মিরা। পুলিশ এসে লোক জনের জমায়েত সরিয়ে দিয়েছে। লক ডাউনের মধ্যেই সেই রূপোর কয়েন দেখতে ভিড় জমায় হাজার হাজার মানুষ। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন, কি করে এখানে এলো এইসব পৌরানিক রৌপ্য মুদ্রা? মুদ্রা গুলির গায়ে খোদাই করা রয়েছে বিভিন্ন অক্ষর। মুদ্রা গুলি উদ্ধারে স্থানীয় মহলে উঠেছে নানান প্রশ্ন? অনেকে জানিয়েছেন, বর্তমানে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে নদী থেকে বালি তোলা হয়। এতে নদীতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। নদীর তলদেশে থাকা মুদ্রা ভরতি কোনও পাত্র এভাবে উঠে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: লালফৌজের বিজয় দিবসের ৭৫তম বর্ষ পালন এসইউসিআইয়ের

মেখলিগঞ্জ থানার ওসি রাজু সোনার জানিয়েছেন, মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহের ২০৭ নং শিকার পুর এলাকায় সুটুঙ্গা নদী থেকে ধাতব কয়েন গুলি উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ টি কোয়েন পুলিশের কাছে জমা পড়েছে। সেগুলি আসলে কি তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরীক্ষা করার পরই জানা যাবে সেগুলি আসলে কি?

এ মুদ্রা গুলি সম্পর্কে মুদ্রা বিশেষজ্ঞ নবেন্দু ভদ্র জানান, মুদ্রা গুলি প্রাচীন মুদ্রা। কোচবিহারের মহারাজা প্রান নারায়নের সময়কালে এই মুদ্রা গুলির প্রচলন ছিল। প্রান নারায়ন ছিলেন কোচবিহারের ষষ্ঠ মহারাজ। তার রাজত্ব কাল ছিল ১৬২৬ থেকে ১৬৬৫ সাল পর্যন্ত। মুদ্রা গুলির ওজন সাড়ে চার গ্রাম থেকে সাড়ে পাঁচ গ্রাম। মহারাজ প্রান নারায়নই এই মুদ্রা গুলির প্রবর্তন করেন। তখনকার কালে এগুলি ৫০ পয়সা বা অর্ধ তঙ্কা হিসাবে পরিগনিত হতো। এই প্রান নারায়নই ছিলেন জল্পেস মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। জামালদহ যেহেতু তার রাজত্বের মধ্যে পড়ে তাই ওই এলাকা থেকে মুদ্রা গুলি উদ্ধার হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে উদ্ধার হওয়া মুদ্রা গুলি নষ্ট করা যাবে না।কিছু পুলিশের হাতে জমা পড়েছে, হয়তো আরও কিছু মুদ্রা গ্রামবাসীদের হাতে রয়েছে, সেগুলি মুদ্রা বিশেষজ্ঞদের হাতে দিলে সেগুলি থেকে ইতিহাসের অনেক তথ্য জানা যাবে।কারন সেগুলির মধ্যে ইতিহাসের অনেক তথ্য লুকিয়ে রয়েছে। মুদ্রা গুলিতে সন, তারিখ, রাজার নাম উল্লেখ থাকায় রাজ আমলের ইতিহাস লেখার সহায়ক হবে।

Related Articles

Back to top button
Close