fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ওয়েইসি বঙ্গে এলে লাভ বিজেপির… মুসলিম ভোট ব্যাংকে থাবা বসাবে মিম: সিদ্দিকুল্লা

মোকতার হোসেন মন্ডল, কলকাতা: ওয়েইসি বাংলায় এলে লাভ হবে বিজেপিরই। কারণ, তাঁর দল মিম তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে থাবা বসিয়ে মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ কেটে নিতে পারে। যা আখেরে গেরুয়া শিবিরকে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ দেবে। এমনটাই মনে করছেন মমতা সরকারের গ্রন্থাগারমন্ত্রী ও জমিয়তে উলেমা-ই হিন্দের বঙ্গ সভাপতি সিদ্দিকুলা চৌধুরী।
এমনিতেই হিন্দু ভোট ক্রমশ এককাট্টা হচ্ছে বিজেপির দিকেই। তার ওপর সংখ্যালঘু ভোটের একটা অংশ বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেনের আশাবাদী গেরুয়া শিবির। এই অবস্থায় ওয়েসির দল বাংলায় জমি শক্ত করলে নিঃসন্দেহে তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাংক ধসে যাবে। তাই ওয়েইসি রুখতে মরিয়া চেষ্টায় খামতি রাখলেন না মমতা মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান সদস্য সিদ্দিকুল্লা।

বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের কাঁটাদিঘি ইসলামিয়া খালিলিয়া মাদ্রাসায় জেলা স্তরের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এক কর্মিসভা ছিল। তৃণমূলের মুসলিম ভোট ধরে রাখতে তৎপরতা স্পষ্ট হয় তাঁর বক্তব্য। আসাদুদ্দিন ওয়েসিকে ‘হায়দরাবাদের পাখি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। সিদ্দিকুল্লা বললেন, হায়দরাবাদ থেকে পাখি এসে বাংলায় ডিম পেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে কী হবে তা নিয়ে সতর্ক হতে হবে। যেকোনও ভাবেই এরাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিভাজনের রাজনীতি রুখতে হবে।

আরও পড়ুন:দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, আজ বাবরির রায় ঘোষণা, রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বজায় রাখতে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’। মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ধর্মের রাজনীতি হয় না। মুসলিমরাও আলাদা করে নিজেদের কোনও দল তৈরি করে রাজনীতি করেন না এখানে। বাংলার মুসলিমরা ধর্মনিরপেক্ষ পৃথক দল গড়ে ধর্মের রাজনীতির কথা বলছেন, তাঁরা একটা পঞ্চায়েত দখল করে দেখান। পারবেন না। মধ্যে থেকে কিছু ভোট টেনে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়া হবে। এখানে বড়সড় রাজনৈতিক দলগুলো ভোট লড়ছে। আমি নির্বাচনে জেতা কত কঠিন, তা সবাই জানে’। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার মুসলিম ভোট ব্যাংক নিজের দল মিমের দিকে টানতে চাইছেন আসাদুদ্দিন ওয়েইসি’।
কিন্তু বারবারই তাঁর প্রচেষ্টা জল ঢেলে দিতে তৎপর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লকডাউনে আগেই এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ মিম নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়, মমতা প্রশাসন। সেই সময় গ্রেফতার করা হয় মিম নেতা জামিরুল হাসান, মোতিউর রহমানদের। যা আসলে ওয়েইসিকে বার্তা দেওয়ার কৌশল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোনও ভাবেই এরাজ্যে মিমকে জমি ছাড়তে নারাজ তিনি।  তাঁর গুডবুকে নেই ওয়েইসি। কিন্তু একুশের নির্বাচনে সেই মিমই সক্রিয় হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে। এমন সম্ভাবনা জোরালো হতেই ফের তা রুখতে তৎপরতা শুরু হয়েছে শাসক শিবিরে।

Related Articles

Back to top button
Close