fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সৌমিত্র খাঁয়ের গ্রেফতার ঘিরে উত্তপ্ত আসানসোল, চলল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

সোমবার রাজ্য জুড়ে যুব মোর্চার ডাকে রাস্তা অবরোধের ডাক

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার( বিজেপির যুব সংগঠন) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের প্রতিবাদ করতে এসে করে গ্রেফতার হলেন বিজেপি সাংসদ তথা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। শনিবার সকালে আসানসোলের কুমারপুরে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর সময় সৌমিত্র খাঁ’কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আসানসোল জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায়, আসানসোলের সাংসদ প্রতিনিধি জেলা নেতা প্রশান্ত চক্রবর্তী সহ অন্যরা। আর এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলে নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির সংঘাত চরমে ওঠে। শুরু হয় দুই দলের নেতাদের বাকযুদ্ধ।

আরও পড়ুন:সৌমিত্র খাঁকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আরামবাগ‌ে বিজেপির পথ অবরোধ

ঘটনার প্রেক্ষিতে সৌমিত্র খাঁ সরাসরি আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমুল কংগ্রেসের সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে আক্রমণ করেন। পুলিশকেও তিনি হুমকি দেন। পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটেছেন আসানসোলেরও মেয়রও। দলের যুব মোর্চার রাজ্য নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব হন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ঘন্টাখানেক পরে অবশ্য সৌমিত্র খাঁ সহ অন্যদের ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিনের বিজেপির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ কমিশনারেট অফিস চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিজেপির যুব মোর্চার নেতাদের ভ্যানে তোলার সময়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে আসানসোল পুরনিগমের সাইনবোর্ডের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, একটি বোর্ডে বাংলা ভাষা লেখা নেই। শুধুমাত্র হিন্দি, উর্দু ও ইংরাজিতে লেখা আছে। বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় তা শেয়ার করে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। বিজেপির অন্য নেতারাও তা শেয়ার করেন। কিন্তু মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি দাবি করেন, গোটাটাই ভুয়ো। বাংলা সহ চার ভাষাতেই বোর্ডে লেখা আছে।

আরও পড়ুন:জিতাষ্ঠমীতেই দেবীর আবাহন, সালানপুরের পুইতণ্ডি পরিবারের দুর্গাপুজো এবার ৪২ দিনের

মেয়রের নির্দেশে পুরনিগমের আইনি পরামর্শদাতা সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় আসানসোল দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে নেমে পুলিশ শুক্রবার রাতে বাপ্পাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩/এ, ৫০৪, ৫০৫/২, ১২০/বি ও ৩৫ নং ধারায় মামলা করে পুলিশ।

সেই খবর পেয়ে এদিন সকাল আটটার সময় আসানসোলে এসে পুলিশ কমিশনারেট অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়েন সৌমিত্র খাঁ সহ জেলার যুব মোর্চার নেতা ও কর্মীরা। সেখানেই সৌমিত্র খাঁ বলেন, পুলিশ কমিশনারেটের কিছু পুলিশ জিতেন্দ্র তেওয়ারির দলদাসে পরিণত হয়েছে। আমরা সব দেখে রাখছি। আর দুমাস। তারপর দেখবেন কি হয় । এই জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে আমরা জেলে ঢোকাব।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পাঞ্চলে জিতেন্দ্র তেওয়ারির মদতে বেআইনি কয়লার কারবার চলে। পুলিশের ক্ষমতা থাকলে, তাকে গ্রেফতার করে দেখাক। আমরা কিন্তু কাউকে ছাড়ব না। আমাদের আন্দোলন চলবে। সোমবার রাজ্য জুড়ে যুব মোর্চার ডাকে রাস্তা অবরোধ করা হবে।

আরও পড়ুন:বিড়াল থেকেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস, আতঙ্কের কথা শোনালেন বিশেষজ্ঞরা

এর পাল্টা হিসাবে মেয়র বলেন, সৌমিত্র খাঁ বা ওই দলের লোকেরা কি বলল, তাতে আমার কিছু এসে যায় না। ওই সাইনবোর্ডের যে ছবি বিজেপির আইটি সেল প্রচার করেছে, তা যে ভুয়ো তার প্রমাণ হয়ে গেছে। আসানসোলের মানুষ যেদিন বলবে, সেদিন ভাবব। আমরা আসানসোলের কথা ভাবি। আর ওর দলের তো আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রী। সে কি করছে? আর কয়লা খনিতে তো পাহারা দেয় সিআইএসএফ। তাদেরকে বলুক৷ বিজেপি কি দল, তা সবাই বুঝে গেছে।
শনিবার ধৃত বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়কে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের তরফে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার জামিন নাকচ করে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।

Related Articles

Back to top button
Close