fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আইসোলেশন! ক্যান্সার আক্রান্ত মা,পুত্র থেকে প্রসূতি ও সদ্যোজাতও, পজেটিভে আসানসোল

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল:  মুম্বাইয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা করে ফিরে আসা মা ও ছেলের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মিললো। তারা পশ্চিম বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের জয়রামপুরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকেই আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও আসানসোল জেলা

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউশগ্রামের বাসিন্দা বছর ৫০ এর মহিলা ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলো বছর ২০এর ছেলে। তারা যখন গত ১১ মে ফিরছিলেন, তখন বাংলা – ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ডুবুরডিহি চেকপোস্টে পুলিশ তাদের আটকায়। দুজনকেই আসানসোল জেলা হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক মাকে হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। কিন্তু ছেলেকে ভর্তি করা হয়নি। হাসপাতালের তরফে মা ও ছেলের লালারস বা সোয়াব পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেই পরীক্ষার রিপোর্ট হাসপাতাল কতৃপক্ষর কাছে এলে, জানা যায়, মা ও ছেলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। হাসপাতাল কতৃপক্ষ তড়িঘড়ি জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে, রাতেই তাদেরকে দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এদিকে, মা ও ছেলের করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই জেলা হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মহিলার ছেলে গত তিনদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে জিনিসও কিনেছিলো। শুক্রবার সকালে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ হাসপাতালের কাছের রাস্তার বেশ কয়েকটি দোকানকে বন্ধ করিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, এই মুহুর্তে আসানসোল জেলা হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে এক প্রসূতি ও তার সদ্যজাত ভর্তি রয়েছে। তাদের লালারস পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই প্রসূতি গত তিনদিন ধরে জেলা হাসপাতালের গাইনিক ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলো। বুধবার প্রসূতি সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তার কিছু শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। তখনই তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো গাইনিক ওয়ার্ড থেকে হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে, গত ২৪ ঘন্টায় আসানসোল জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগ থেকে মোট ৬ জনকে আসানসোলের সেনরেল রোডের বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছে। যারমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ভর্তি হওয়া ৪ জন অন্য জেলার বাসিন্দা। শুক্রবার সকাল ও বিকালে ভর্তি এক বধূ সহ ২ জন আসানসোলের বাসিন্দা বলে জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও, আসানসোলের সেনরেল রোডের বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে মৃত্যু হওয়া এক রোগীর লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে আসেনি। বার্ণপুরের বাসিন্দা ঐ রোগীর বুধবার রাতে মৃত্যু হয়। বিভিন্ন উপসর্গ থাকায় তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিলো। ঐ রোগীর দেহ আপাততঃ জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মতো সবকিছু করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close