fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আইসোলেশান ওয়ার্ডে রোগী মৃত্যুর পরে নার্সকে মারধরের অভিযোগ

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোল জেলা হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহে ভর্তি হওয়া এক রোগীর মৃত্যুর পরে, ওয়ার্ডে  কর্তব্যরত এক নার্সের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল মৃত রোগীর মায়ের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালের এই ঘটনার পরে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ১০০ জন নার্স হামলাকারীকে গ্রেফতার ও নিরাপত্তার দাবিতে হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগের বাইরে বিক্ষোভ দেখান।

নার্সরা জানিয়েছেন যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এইভাবেই বিক্ষোভ চলবে। এই ঘটনার পরে হামলাকারী ও রোগীর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ হাসপাতালে  আসে। ওয়ার্ডের নার্সেরা হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাসকে লিখিতভাবে গোটা ঘটনা জানান৷ তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শর্মিষ্ঠা দে নামে প্রহৃত ওই নার্স হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন৷ তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, করোনা আবহের মধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর পরিবারের সদস্যদের ঢোকার কথা নয়। এক্ষেত্রে ওই রোগীর মা কি করে ওয়ার্ডে ঢুকলো, তা নিয়ে হাসপাতালের নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আইসোলেশন ওয়ার্ডের গেটে কোন নিরাপত্তা রক্ষী নেই। বারবার এই ব্যাপারে সুপারকে বলা হয়েছে। কিন্তু,  তিনি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ।

[আরও পড়ুন- শিবের মাথায় জল ঢালতে গিয়ে দামোদরে তলিয়ে গেল ৪ পড়ুয়া, মৃত ৩]

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুলটি থানার এলসি মোড়ের বাসিন্দা ২৭ বছরের সন্তোষী চৌধুরীকে রবিবার বাড়ির লোকেরা আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা এমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসককে বলেন, শিশু বয়স থেকেই সন্তোষীর “এপিলেক্সি”( এক ধরনের খিঁচুনি বা টান হয়। যাতে অচৈতন্য হয়ে যায়) রোগ আছে। শ্বাসকষ্ট থাকায় চিকিৎসকরা করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করেন। রাত এগারোটার রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময় রোগীর বাড়ির লোকেদের হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সকাল এগারোটার পরে তার মৃত্যু হয়।

এরপর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সেই সময় কর্তব্যরত নার্স শর্মিষ্ঠা দে রোগীর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে মৃত্যুর কথা বলতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ মৃতার মা কোনভাবে ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে। আচমকাই তিনি পিপিই পড়া নার্সের উপরে চড়াও হয়ে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। তাকে টানাটানি করে মারধর করেন৷ নার্সের চিৎকারে অন্যরা ছুটে আসার আগেই হামলাকারী মহিলা পালিয়ে যান। প্রহৃত নার্স বলেন, আচমকাই আমার ওপরে ওই মহিলা চড়াও হয়ে মারধর করে। পরে হাসপাতালের অন্য নার্সরা সুপারের কাছে গিয়ে তাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। সুপার তাদেরকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এরপরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার বলেন, ঘটনার কথা লিখিত ভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। নার্সদের অন্য সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীর খোঁজ চলছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, মৃত রোগী করোনা আক্রান্ত নয়। তার লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close