fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা ভাইরাসের জেরে কমেছে আড়ম্বর, আসানসোল শিল্পাঞ্চলে মহালয়ায় একদিনের দুর্গাপুজো

শুভেন্দু   বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: ক্যালেন্ডার মতে এবছরের দূর্গাপুজো মহালয়ার দিন থেকে ১ মাস ৫ দিন পরে। ২২ অক্টোবর হবে মহাষষ্ঠী। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শিল্পাঞ্চলের ইস্পাতনগরী হিরাপুর থানার বার্ণপুরের ধেনুয়া গ্রামে অবশ্য তা হয় না। আগেও তা হয়নি। বার্ণপুরের এই গ্রামে মহালয়ায় দিন দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়।  তাও সেও পুজো আবার একদিনের। সেইদিক থেকে এই পুজো বাংলার দূর্গাপুজোর ক্ষেত্রে একবারে যে  ব্যতিক্রম তা বলাই যেতে পারে। করোনা কালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরনো রীতি ও আচারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মহালয়ার সকাল থেকে এই পুজো শুরু হয়। নবপত্রিকা বা কলা বউ স্নানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মহা সপ্তমীর পুজো। তারপর একে একে নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে মহাষ্টমী ও মহানবমীর পুজো। তারপর অপরাজিতা পুজো দিয়ে শেষ হয় দশমী।

[আরও পড়ুন- বিশ্বকর্মা থাকলেও পুজোয় জৌলুস নেই দুর্গাপুর বিশ্বকর্মানগরীতে]

এই বছর ধেনুয়া গ্রামের এই পুজোয় পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন হিরাপুর গ্রামের আশীষ কুমার ঠাকুর। তার কথাতেই জানা গেলো,  এই পুজোর পুরনো ইতিহাস। বাংলার ১৩৮২ বা ২৪ বঙ্গাব্দে ইংরাজির ১৮৬৯ সালে ধেনুয়া গ্রামে এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর। এই গ্রামের তার হাতের তৈরী দক্ষিণা কালি মন্দির ও বাবা মহাদেবের মন্দির আছে। কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর মারা যাওয়ার পরে, তার সমাধিও এখানে করা হয়েছে। আশীষবাবু বলেন, এখানে মা দুর্গার সঙ্গে তার চার ছেলেমেয়ে লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ নেই। থাকেন না মহিষাসুরও। এখানে মায়ের সঙ্গে থাকেন তার দুই সখী জয়া ও বিজয়া। তারাই মায়ের সঙ্গে এখানে পুজিত হন। আশীষবাবুর কথায় আর জানা যায়, এই পুজো বৈষ্ণব মতে করা হয়। যা কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর শুরু করেছিলেন। তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। এই পুজোয় কোন বলি হয় না।

তবে কেন, মহালয়ার দিনে একদিনের দুর্গাপুজো হয়, তা অবশ্য আশীষ কুমার ঠাকুর বা গ্রামের বাসিন্দারা বলতে পারেননি। আশীষবাবু বলেন, আমাদের জানা নেই। হতে পারে তিনি কোন স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তার থেকেই পুজো শুরু।   পুজোর অন্যতম সেবাইত কৃষ্ণচন্দ্র ধীবর বলেন, এখানে মা দুর্গা কুমারী মহামায়া। আগে এখানে কালিপুজো ও শিবপুজো হত। পরে দুর্গাপুজো শুরু হয়।

Related Articles

Back to top button
Close