fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রানিগঞ্জ খনিগর্ভে মজুত ২.২ বিলিয়ন ঘনমিটার কোল বেল্ট মিথেন, উত্তোলনে ইসিএলের সঙ্গে সিএমপিডিআইএলের ৩০ বছরের চুক্তি

শুভেন্দু  বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোল রানিগঞ্জে ইসিএলের কয়লা খনি এলাকায় খনিগর্ভে থাকা কোল বেল্ট মিথেন গ্যাস বা সিবিএমের বাণিজ্যিকরণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার জন্য এই পরিবেশ বান্ধব গ্যাস উত্তোলনের জন্য ইসিএল ও সিএমপিডিআইএলের মধ্যে ৩০ বছরের চুক্তি হয়েছে।

ইসিএলের ডিরেকটর (অপারেশন) বি ভিরা রেড্ডি জানান, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে রানিগঞ্জ কয়লা ব্লক এলাকা থেকে কয়লা ভিত্তিক বা কোল বেল্ট মিথেন গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। এই এলাকায় প্রায় ২.২ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস মজুদ আছে। আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত এই গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। ৩০ বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকারও বেশি এই গ্যাস উৎপাদন হবে। এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।

তাছাড়াও এই গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হলে, তাতে বেশকিছু মানুষেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।সিটুর কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি গিরিশ শ্রীবাস্তব গত ৪ সেপ্টেম্বর কোল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ইসিএলের চেয়ারম্যানকে ইসিএলের আর্থিক ক্ষতি কমাতে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  তার মধ্যে কোল বেল্ট মিথেন বা সিবিএম ও কোল মাইন্স মিথেন বা সিএমএম যে প্রচুর পরিমাণ রানিগঞ্জ খনি গর্ভে মজুত আছে তা তোলার প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ৮০ দশকে আসানসোলের মুসলিয়া কোলিয়ারিতে জার্মানি একটি সংস্থা এই গ্যাস তোলার জন্য একাধিক গর্ত করে ও মেশিনও বসায়। কিন্তু মাঝপথে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কেন সেই কাজ বন্ধ হয়েছিল আজও তা আমরা জানিনা।

[আরও পড়ুন- বউবাজারে বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে মৃত ১]

বি ভিরা রেড্ডি আরো বলেন, সেন্ট্রাল মাইন  প্ল্যানিং ডিজাইন ইনস্টিটিউট লিমিটেড বা  সিএমপিডিআইএল এই সিবিএম উৎপাদন করার জন্য সংস্থা নির্বাচনের জন্য একটি গ্লোবাল এনআইটি (নোটিশ আমন্ত্রণ টেন্ডার) তৈরি করেছে।  এর সঙ্গে সম্পর্কিত ঠিকাদারদের সঙ্গে  ইসিএলের সদর দফতরে একটি বৈঠকও করা হয়েছে। তাতে ১৩টি সংস্থার প্রতিনিধিরা  উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে আইওসিএল, প্রভা এনার্জি, ইএসএসআর, আদানি, জেএমই মাইনিং, এসআরবি গ্রুপ, গেইন ওয়েল, গ্রাইকা ড্রিলিং, এক্সএমই বার্গার, এমএপিএল, ভিএলআইয়ের মতো সংস্থা।

তিনি আরে বলেন,  কয়লা ভিত্তিক বা কোল বেল্ট  মিথেন একটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী। মিথেন গ্যাস পরিবহন সহ নানান কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রানিগঞ্জ ব্লকে ৫৭ বর্গকিলোমিটার জমি থেকে এই গ্যাসে অনুসন্ধান করে, তা  উত্তোলনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।  সিএমপিডিআইএল এই প্রক্রিয়াটির জন্য তার গাইডলাইন দেবে। ইসিএলের পরিচালন পর্ষদের সভায়  ইতিমধ্যেই তা অনুমোদিত করা হয়েছে।

কিভাবে এই গ্যাস তোলা বা উত্তোলন করা হবে? এই গ্যাস উত্তোলনের জন্য, নির্বাচিত খনি এলাকার মাটিতে এক মিটার দূরত্বে একাধিক  গভীর গর্ত তৈরি করা হবে। কয়লা সিমের প্রায় ১০ মিটার নীচে হাইড্রোবেড ফ্র্যাকচারিং পদ্ধতিতে গর্তের  মধ্য দিয়ে কয়লার স্তরে থাকা মিথেন গ্যাসকে ধাক্কা দেবে। এই পদ্ধতিটি তেল বা গ্যাস তোলার জন্য একটি উন্নত পদ্ধতি বলে জানা গেছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close