fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচী,ফেসবুকে সরব অশোক

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: ব্যাপক আকারে করোনা সংক্রমনের আবহে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে বিজেপি’র পর এবার সোস্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন সদ্য করোনা বিজয়ী শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক তথা বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী ও তাতে অংশগ্রহনকারি নেতা, নেত্রীদের মধ্যে করোনায় সংক্রামিতের সংখ্যার হিসেব নিয়েও। বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে তার নিজস্ব পেজে জেলা তৃণমূলের কার্যক্রম ও গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন অশোক ভট্টাচার্য।

ফেসবুক পেজে অশোক বাবুর বক্তব্য, “খবরে শুনছিলাম দুদিন আগে বিধান নগরে একটি বড় হোটেলে একটি সংস্থা কিছু ব্যক্তিকে সংবর্ধনার নামে বিরাট খাওয়া দাওয়ার আসর বসানো হয়েছিল, যার মূল উদ্যোক্তা শাসক দলের কিছু নেতা। কী ভাবে বেশ কিছু বড় ranker অফিসাররা এতে উপস্থিত ছিলেন? কারা এদের উপস্থিতির অনুমতি দিলেন, এসব নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। সেখান থেকে কজনের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছে,মানুষ জানতে চায় তাও। বিধি অনুযায়ী এদের কোয়ারেন্টাইন এ যাওয়ার কথা, তারা গেছে কিনা, সংখ্যায় নাকি ১৩০জন, সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে চলা হয়েছিল কিনা! সভার উদ্দেশ্য কি করোনা মোকাবিলা ছিল না রাজনৈতিক? এর আগেও করোনা মোকাবিলার নামে উত্তর কন্যায় এরকম একটি রাজনৈতিক সভা হয়েছে। কলকাতা থেকে একজন ডাক্তার বিশেষজ্ঞ এলেন, তার সাথে করোনা মোকাবিলা থেকে রাজনীতিটা বেশী ছিল বলে অনেকের মনে হয়েছে। এভাবে কিন্তু শিলিগুড়িতে করোনা মোকাবিলা করা যাবে না। রাজনীতি হতে পারে। দরকার কলকাতা থেকে অন্তত ২৫জন ডাক্তারের একটি টিম পাঠানো। চিকিৎসার জন্যে, এসব কেউ ভাবছেন না! এতো গুলি মানুষের মৃত্যু হলো, এরা কেউ ৬৫বছরের ওপরে বা কোমরবিডিটি ছিলোনা। এই সব মৃত্যুর তদন্ত হওয়া উচিৎ। এখন মানুষ রাজনীতি থেকে চিকিৎসা ও সেবা চায়। এসব নিয়ে কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনা হয় কিনা জানা নেই।
——————-অশোক ভট্টাচার্য।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন অশোক বাবু। বেশ কয়েকদিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। সুস্থ হয় বাড়ি ফিরেই, করোনা সংক্রমনের সদ্য অভিজ্ঞ অশোক ভট্টাচার্য শাসকদলের গতীবিধি নিয়েই ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের গতীবিধি ও রাজনৈতিক কর্মসূচীর এই একই ইস্যুতে সরব হয় জেলা বিজেপিও। বিজেপি’র অভিযোগ, তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের বেশ কয়েজনেরই করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু তার পরেও তারা বহাল তবিয়তে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে গেছে। ফলত, একদিকে যখন করোনা সংক্রমন উর্ধ্বমুখি, সেই সময়েই শাসক দলের একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচী ও তাতে অংশগ্রহকারি নেতা, মন্ত্রী, আমলাদের স্বাস্থবিধি সম্পর্কিত সচেতনতা নিয়েও বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close