fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অশোক ভট্টাচার্যের পর করোনায় আক্রান্ত মুকুল সেনগুপ্ত, শিলিগুড়িতে গোষ্ঠী সংক্রমণের আতঙ্ক

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি পুরসভায় করোনার আক্রমণ প্রসারিত হচ্ছে। প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্যের পর এবার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লো প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য মুকুল সেনগুপ্তর শরীরের। গত ২৪ ঘন্টায় শিলিগুড়ি পুরসভা এলাকায় ২৫ জনেরও বেশি নতুন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে তিনজন পুরসভার কর্মী রয়েছেন।

মুকুল সেনগুপ্ত গত কয়েকদিন ধরে শহরের প্রধাননগরের একটি নার্সিংহোমর করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গে মেডিক্যাল কলেজে পাটানো হয়েছিল। রবিবার রিপোর্ট এলে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত।
অশোক ভট্টাচার্যের পরএক মুকুল সেনগুপ্তর সংস্পর্শে পুরসভার আরও কতজন কর্মী এসেছিলেন তা নিয়ে হিসেব-নিকাশ শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। সেই সঙ্গে পুরসভার কর্মীদের মধ্যেও সংক্রমণের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুধু শিলিগুড়ি পুরসভা ভবনেই নয়, গোটা শিলিগুড়ি পুরসভা এলাকাতেই দিন কে দিন করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় যে করোনা আক্রান্তদের সন্ধান মিলেছে তাদের বেশির ভাগেরই ভ্রমণের কোনও তথ্য। নেই গত দু ‘মাসে তারা কেউ শিলিগুড়ির বাইরে যা শিলিগুড়িতে এরকম করোনা সংক্রণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের একাংশ দাবি করছেন, শিলিগুড়িতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এ ব্যাপারে কোনও মান্যতা মেলেনি।

বাইরে থেকে শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ ঘরে ফেরার পর থেকেই শিলিগুড়িতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। এ ধরনের বাইরে আটকে থাকা মানুষ ঘরে ফেরার মুহূর্তেই লকডাউন শিথিল হওয়ায় করোনা সংক্রমণ শহরে ব্যাপক আকার নিচ্ছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তাদের অভিমত শিলিগুড়িতে যেভাবে পাড়ায় পাড়ায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ছে তাতে সংক্রমণের চেন বা শৃংখল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দিনে শহরে করোনা সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাই তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়িতে আবার কিছু দিনের জন্য কড়াকড়িভাবে লকডাউন চালু করা উচিত।

যদিও এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেননা বাইরে আটকে থাকা শহরের মানুষ ঘরে ফেরার বেশ কিছুদিন আগে এ ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন উত্তরবঙ্গের করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওএসডি ডাক্তার সুশান্ত রায়।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, পরিযায়ী শ্রমিক আসতে শুরু করলেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।’ ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন স্বাস্থ্যকর্তারা এই দিকটি আগাম বুঝে যাওয়ার পরও কেন সেইমতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? অভিযোগ বাইরে থেকে ঘরে ফেরা বহু মানুষ স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনে নিজেদের কোয়ারান্টাইনে রাখেননি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে এদের অনেকেই অবাধে মেলামেশা করেছেন। সংক্রমণের আরেকটি ক্ষেত্র দেখতে পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। সেটি হল বাইরে থেকে কাজ হারিয়ে আসা বহু গরিব মানুষ ঘরে ফিরেই সবজি সহ নানা ধরনের জিনিস বাড়ি বাড়ি ফেরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদের থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

Related Articles

Back to top button
Close