fbpx
অসমহেডলাইন

মাদ্রাসা তুলে দেওয়ার চেষ্টা! অসম সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা বাংলার মুসলিম নেতাদের

মোকতার হোসেন মন্ডল: অসমে মাদ্রাসা তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে বেশ কিছুদিন থেকে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা হচ্ছে তাতে চিন্তিত বাংলার মুসলিম নেতারা। তারা অসম সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলছেন, সংবিধানের ৩০ এ ধারা অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে পারবে এবং সরকার তাতে সহযোগিতা করবে।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন, অসম সরকার মাদ্রাসার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অসমের ঐতিহ্য বিরোধী। অসমে প্রায় ১১ হাজার মাদ্রাসা আছে তার মধ্যে প্রায় হাজারখানেক সরকারি মাদ্রাসা আছে। মাদ্রাসা ব্রিটিশ জামানা থেকে আছে। মাদ্রাসা অর্থ বিদ্যালয়। সংখ্যালঘু মুসলিমরা যাতে কৃষ্টি সংস্কৃতি বজায় রেখে শিক্ষার্জন করতে পারে তার জন্য মাদ্রাসা। মাদ্রাসা বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার যে জমি মুসলিমরা দান করেছে তার কী হবে? তাছাড়া মাদ্রাসায় শুধু মুসলিমরা পড়াশোনা করে না, অমুসলিমরাও পড়াশোনা করে। সংখ্যালঘু প্রান্তিক মানুষদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে অসম সরকারকে মাদ্রাসার পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে।

[আরও পড়ুন- গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে]

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,’সাংবিধানিক অধিকার মোতাবেক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা চলছে। অসম সরকার যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসা তুলে দিতে চাইছেন, সেটা সাংবিধানিক বিধির পরিপন্থী। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কোনো সরকার এভাবে সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেনা।

জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর  সরদারের মন্তব্য,’অসম সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও সংবিধান বিরোধী। নানা ভাষা নানা মতের ভারতবর্ষকে আজ গৈরিকীকরণের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে বর্তমান সরকার। যার ফলে দেশ আজ বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। দেশে হাজারো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বেছে নেওয়া হয়েছে বিশেষ এক সম্প্রদায়কে, বিভিন্ন ঘটনায় তাদেরকে বলির পাঠা করা হচ্ছে, তারই একটি অংশ হিসেবে আসামে মাদ্রাসা শিক্ষাকে বন্ধ করা। বর্তমান মাদ্রাসাগুলিতে আধুনিক শিক্ষার সাথে সাথে নামমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার সেটাও চাইছে না। আমরা সরকারের কাছে মাদ্রাসা শিক্ষা যাতে বন্ধ না হয় তার অনুরোধ জানাই।

যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন,’ভারতের সংবিধানে মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার কথা বলা আছে। তাই অসম সরকারের এই প্রস্তাব সংবিধান ও দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ বিরোধী।

Related Articles

Back to top button
Close